যখন ক্লাস চলার কথা, তখন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার গ্রাম অঞ্চলের বেশিরভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকে তালাবদ্ধ। কিছু প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি হাতে গোনা ৪ থেকে ৫ জন। তবে শিক্ষকদের খবর নেই। সরকারের সময়সূচি তোয়াক্কা না করে শিক্ষকরা নিজেদের ইচ্ছেমতো স্কুলে আসা-যাওয়া করছেন। এতে শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষার মূল্যবোধে অমনোযোগী হয়ে পড়ছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, অলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারের নিয়ম অনুযায়ী ক্লাস হয় না। শিক্ষকরা "যখন ইচ্ছে আসেন, যখন ইচ্ছে চলে যান।" কেউ আসেন সকাল ১০টায়, আবার কেউ আসেন ১২টার দিকে। শিক্ষার্থীরা এসে তালা খোলার চেষ্টা করছে, আবার মাঠে এদিক-সেদিক এলোমেলো দৌড়াদৌড়ি করছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে একে একে সবাই উপস্থিত হন। জানতে পেরে একের পর এক শিক্ষক বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন। তাদের দাবি, সরকারি কাজে ব্যস্ততার অজুহাত দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সকাল গড়িয়ে দুপুর হতেই স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এভাবে প্রায় সবকটি স্কুলেই পড়াশোনা হচ্ছে। উপজেলার সিংহনাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেলা ২টা ৫০ মিনিটে সরজমিনে গিয়ে স্কুল বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি জানান, আজ স্কুল বন্ধ করার কথা নয়। প্রমাণাদি দেওয়ার পর তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। তবে এর আগেও আরও একটি স্কুলে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি বিষয়ে আলাপ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :