দাসিয়ারছড়ায় সেতু না থাকায় হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ

জাকির হোসেন , ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:২০ পিএম

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার তিন গ্রামে নীলকমল নদীর ওপর সেতু না থাকায় হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে ভুগছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা বাঁশের সাঁকো দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সদরের বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার হাবিবপুর, কামালপুর ও বটতলা এই তিন গ্রামের মানুষের জন্য নীলকমল নদী এখন ভয় ও ভোগান্তির নাম। নদীর ওপর কোনো স্থায়ী সেতু না থাকায় এসব গ্রামের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে উপজেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, এলাকাবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত প্রায় ১২০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকোটি দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে। সাঁকোটির অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বিকল্প পথ না থাকায় নারী, শিশু, বয়স্ক ও শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে এটি ব্যবহার করছে।

সম্প্রতি হাবিবপুর গ্রামের এক বৃদ্ধ ব্যক্তি সাঁকো পারাপারের সময় পড়ে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষ মিলেই নিজেদের প্রয়োজনে সাঁকোটি নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু এ বছর অর্থাভাবে তা মেরামত করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।

সেতু না থাকায় কৃষকরাও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ধান, পাট, সরিষা ও বিভিন্ন শাক-সবজি সহজে উপজেলা সদর বাজারে নিতে পারছেন না। ভ্যান, রিকশা কিংবা অটোরিকশা চলাচলের সুবিধা না থাকায় চার কিলোমিটারের বেশি ঘুরে যেতে হচ্ছে, এতে সময় ও পরিবহন খরচ দুটোই বেড়ে যাচ্ছে।

এলাকাবাসী জানান, ২০১৫ সালে ছিটমহল বিনিময়ের পর দাসিয়ারছড়া বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হলেও আজও মৌলিক যোগাযোগ সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত। দীর্ঘদিন ধরে নীলকমল নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ চলাচলের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।

Link copied!