নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পৌরসভার দত্তপাড়া এলাকার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ওপর দুর্বৃত্তদের হামলার প্রতিবাদে শতাধিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল দশটা থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর গত ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় দত্তপাড়া বিএনপি’র উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনের বাড়ি থেকে আসার পথে দুজন মাস্ক পরিহিত ব্যক্তি তাঁর গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও টানা হেঁচড়া করে ফেলে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। ঘটনাটি একে একে সকলের কাছে পৌঁছালে সকালে শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতের শরণাপন্ন হন। তাঁরা উপজেলা চত্বরে প্রধান শিক্ষকের ওপর আক্রমণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। শিক্ষার্থীরা ‘শিক্ষকের ওপর হামলা কেন, জবাব চাই জবাব চাই’ স্লোগান দেন এবং অবিলম্বে আক্রমণকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত উপজেলা চত্বরে চলে আসেন। সাথে ছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহিবুল্লাহ।
তাঁরা বলেন, শিক্ষকের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে পটপরিবর্তনের পর তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমানকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের যোগসাজশে বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনার সঙ্গে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানের সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকেই দুই শিক্ষকের মধ্যে বিরোধ চলমান।
পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত তাঁর পক্ষে রায় দেন এবং তিনি পুনরায় বিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এদিকে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান ওই রায়ের বিরুদ্ধে রিট আবেদন করেন, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। ফলে দু’জনই নিজেদের প্রধান শিক্ষক দাবি করে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, মূলত দুই প্রধান শিক্ষকের দ্বন্দ্বে ইন্ধন দিচ্ছেন স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। বিদ্যালয়ে আধিপত্য বিস্তারের জন্য তাঁরা দুটি গ্রুপ তৈরি করেছেন। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিবুল্লাহ বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং একটি আলাদা বিষয়। তবে শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে ক্লাস চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করা সমীচীন নয়। আমরা বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছি। ভবিষ্যতে যেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :