৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ অংশে ছিনতাইকারী ও ডাকাতদের দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। মহাসড়কে যাতায়াতকারী মানুষের সর্বস্ব লুটে নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধীরা নিয়মিত সাধারণ মানুষকে আঘাত ও রক্তাক্ত করছে। এমন বেশ কিছু ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ ও সোনারগাঁ থানা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা সমালোচনা শুরু হয়। এই সংকটময় সময়ে সোনারগাঁ থানার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে মুহিবুল্লাহ যোগদান করার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আপ্রাণ চেষ্টা শুরু করেন। উপজেলা প্রশাসন ও সোনারগাঁ থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সুরক্ষিত রাখতে গ্রহণ করা হয় এক বিশেষ কর্মপরিকল্পনা।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে সাহসী ও বিচক্ষণ কর্মীদের নিয়ে একটি 'বিশেষ নিরাপত্তা প্রহরী' দল গঠন করা হয়েছে। মহাসড়কের ডাকাতিপ্রবণ পয়েন্টগুলোতে এই বিশেষ দলটির কঠোর নজরদারি ও প্রস্তুতির কারণে গত তিন দিনে মহাসড়কের সোনারগাঁ অংশে কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহিবুল্লাহ বলেন, “আমাদের গৃহীত বৃহৎ পরিকল্পনাটি সফলভাবে কাজ করছে। বিগত তিন দিনের মধ্যে কোনো ডাকাতির খবর পাওয়া যায়নি, যা আমাদের জন্য শতভাগ সফলতা। জনগণের জানমালের নিরাপত্তার জন্য সোনারগাঁ উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ সদা তৎপর রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত।”
তিনি আরও জানান, গত মাসে মহাসড়কে ডাকাতির অনেক সংবাদ পাওয়া গেলেও বর্তমান উদ্যোগের পর থেকে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এছাড়া তিনি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিজ নিজ এলাকায় প্রহরীদের উৎসাহিত করার এবং একইভাবে ডাকাত প্রতিহত করার ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
আপনার মতামত লিখুন :