ফরিদপুরে চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়ায় বিএনপি নেতাকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

এস এ মুরাদ , ফরিদপুর জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

ফরিদপুর সদরের কানাইপুরে ‘চাঁদাবাজি’তে বাধা দেওয়ায় মো. ওয়াহিদ মিয়া নামে এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা সোহেল মুন্সীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কানাইপুর হলপট্টি এলাকায় ওয়াহিদ মিয়ার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে এই অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত মো. ওয়াহিদ মিয়া (৪৬) কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। হামলায় তার ভাগিনা রনিও (১৯) আহত হয়েছেন। ঘটনার সময় কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা ও জেলা বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলাম সুজা উপস্থিত থাকলেও হামলাটি এতই দ্রুত ও অতর্কিত ছিল যে প্রথম পর্যায়ে তারা বাধা দিয়েও ব্যর্থ হন।

আহত বিএনপি নেতা ওয়াহিদ মিয়ার দাবি, সোহেল মুন্সী এলাকায় ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। এর প্রতিবাদ করায় সোহেল তার দলবল নিয়ে ফিল্মি স্টাইলে হামলা চালায়। তিনি বলেন, সে এসেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমি বিষয়টি দলের জেলা নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছি।

অন্যদিকে, মারধরের কথা আংশিক স্বীকার করলেও চাঁদাবাজির অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা সোহেল মুন্সী। তার দাবি, একটি এনজিওর (রিলায়েন্স) আমানতকারীদের টাকা নিয়ে গড়িমসি করায় তিনি কথা বলতে গিয়েছিলেন। সোহেলের দাবি, ফোনে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ওয়াহিদ মিয়া আমার ওপর হেডম দেখালে আমি গিয়ে দুই-চারটা চড়-থাপ্পড় দিয়ে এসেছি, এখানে চাঁদাবাজির কিছু নেই।

নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও দলীয় অবস্থান ঘটনাটিকে বিব্রতকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত বলে অভিহিত করেছেন জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এনামুল করিম রেজা। তিনি জানান, বিষয়টি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানানো হয়েছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন জানান, সোহেল মুন্সী সম্পর্কে এর আগেও বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে। বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে কেউ শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে বা দলের সুনাম নষ্ট করলে তা সহ্য করা হবে না।

কোতোয়ালি থানা পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, শুক্রবার রাত পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে সিনিয়র নেতার উপস্থিতিতে একজন ছাত্রদল কর্মীর এমন আচরণে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান ও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Advertisement

Link copied!