মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় সড়ক সংস্কারকাজে নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাসির ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতির কথা বলে ঠিকাদার নাসির উদ্দিন নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করছেন, যা ভবিষ্যতে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, চান্দহর ইউনিয়নের আটিপাড়া মন্দির থেকে হযরতপুর সীমানা পর্যন্ত সড়ক সংস্কারকাজে নির্ধারিত মানের ইটের পরিবর্তে ভঙ্গুর ও নিম্নমানের ইট-খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক ইট হাতে চাপ দিলেই গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে কাজ চলতে থাকলে সড়কটি অল্প সময়ের মধ্যেই আবার চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
একজন অটোচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "অনেকদিন ধরেই রাস্তা ভাঙাচোরা ছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু যে মানের কাজ হচ্ছে, তাতে ছয় মাসও টিকবে বলে মনে হয় না।"
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের দুপাশ সম্প্রসারণ করা হলেও কিছু অংশে পুরোনো পিচঢালাই অপসারণ না করেই নতুন কাজ করা হয়েছে। এতে ভিত্তি দুর্বল থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার অব্যাহত থাকলে একদিকে সরকারি অর্থের অপচয় হবে, অন্যদিকে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার নাসির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে বিএনপি নেতা আসিফ ইকবালকে কথা বলার সুযোগ দেন। আসিফ ইকবাল বলেন, "উপজেলা প্রকৌশলীর অনুমতি নিয়েই কাজ করছি। কাজ কিছুটা নিম্নমানের হচ্ছে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো বাধা দেননি।"
ঠিকাদার নাসির উদ্দিন দাবি করেন, জেলা ও উপজেলার প্রকৌশলীরা সরেজমিনে দেখে পুরোনো পিচ পুরোপুরি অপসারণ সম্ভব হয়নি বলে বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। "আমরা সর্বোচ্চ মানের ইট ও খোয়া ব্যবহার করছি। তবে কিছু স্থানে পুরোনো পিচ ওঠানো সম্ভব হয়নি। সেখানে বিকল্প হিসেবে রাবিশ ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে," বলেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিংগাইর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মাদ আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, "এ ধরনের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে লোক পাঠানো হচ্ছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন— উন্নয়নের নামে যদি নিম্নমানের কাজই হয়, তবে জনগণের কষ্ট কমবে কীভাবে? এখন দেখার বিষয়, তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য সামনে আসে কি না এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না।
আপনার মতামত লিখুন :