কুমিল্লায় গোলাপ প্রদর্শনী: নারীদের সৃজনশীলতা ও বাগান সংস্কৃতি প্রসারে উদ্যোগ

মোঃ আরিফুল ইসলাম ফারহান , কুমিল্লা জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০১ মার্চ, ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম

কুমিল্লা নগরীতে গোলাপের নান্দনিকতা ও স্নিগ্ধতাকে ঘিরে এক ব্যতিক্রমী গোলাপ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হলো। নারীদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা এবং ঘরে ঘরে বাগান সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে মোস্তফা কামাল ফুলু ফাউন্ডেশন এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় নগরীর উত্তর চর্থা এলাকার ‘মা’ বাসভবনে এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

প্রদর্শনীতে বিভিন্ন প্রজাতি ও বর্ণের গোলাপের টব নিয়ে অংশ নেন স্থানীয় শৌখিন বাগানীরা। লাল, সাদা, হলুদ, কমলা, গোলাপি ও মিশ্র রঙের গোলাপের সমাহারে পুরো প্রাঙ্গণ এক বর্ণিল ফুলবাগানে পরিণত হয়। দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো, বিশেষ করে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আয়োজনটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

আয়োজকরা জানান, শহুরে ব্যস্ত জীবনে মানসিক প্রশান্তি ফিরিয়ে আনতে এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে উৎসাহিত করতেই এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এটিকে আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান তারা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আব্দুল্লাহ আল জহির স্বপন। তিনি বলেন, “নারীরা কেবল গৃহস্থালি দায়িত্বেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না—তারা সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে নিজেদের বিকশিত করতে পারেন। গোলাপ চাষ হতে পারে তার একটি সুন্দর মাধ্যম। আমি চাই নারীরা ঘরকন্নার গণ্ডি পেরিয়ে নিজেদের সৃজনশীলতাকে বিকশিত করুক। ছাদে বা আঙিনায় গোলাপ চাষ করে তারা যেমন মানসিক প্রশান্তি পাবে, তেমনি পরিবারেও ছড়িয়ে পড়বে সৌন্দর্য ও ইতিবাচকতা। আমরা সন্তানদের যেভাবে যত্ন নিয়ে বড় করি, একটি ফুলকেও সেভাবেই লালন করতে হয়।”

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি, লেখক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ড. আলী হোসেন চৌধুরী। তিনি স্মরণ করেন, কুমিল্লায় প্রায় ৪১ বছর আগে এমন একটি পুষ্প প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর এমন উদ্যোগকে তিনি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “প্রতিদিনের সংগ্রামমুখর জীবনে ফুল এনে দেয় এক টুকরো প্রশান্তি। যারা ফুল লালন করেন, তারা কোনো বস্তুগত লাভের জন্য করেন না; এটি এক ধরনের নির্মল আনন্দ। মানুষের মনের ভেতরের ক্লেদ দূর করতে ফুলের বিকল্প নেই। যারা ফুল ভালোবাসেন, তাদের মনে সুন্দরের বাস থাকে। এই আয়োজন সেই সুন্দরের চর্চাকেই সম্মান জানিয়েছে।”

প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া আফসানা মিলি বলেন, এটি তার প্রথম গোলাপ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ। তিনি জানান, “এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। এত রকমের গোলাপ একসঙ্গে আগে দেখিনি। ফুল আমাদের সৌন্দর্যের প্রতীক, এটি মনকে প্রফুল্ল করে। এখন মানুষ ফুল চাষে আগ্রহী হচ্ছে—এটি খুবই ইতিবাচক দিক।” অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরাও জানান, ছাদবাগান ও টবে ফুল চাষ এখন কুমিল্লায় ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এমন আয়োজন তাদের উৎসাহ বাড়াবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহনেওয়াজ সুলতানা এবং দৈনিক কুমিল্লার কাগজ-এর সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়। এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, পরিবেশবাদী ও অসংখ্য গোলাপপ্রেমী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন টুটুল। তিনি জানান, ভবিষ্যতে গোলাপের পাশাপাশি অন্যান্য ফুল ও উদ্ভিদ নিয়েও এমন আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে কুমিল্লার প্রতিটি ঘরে বাগান করার সংস্কৃতি গড়ে উঠবে। যান্ত্রিক শহুরে জীবনের একঘেয়েমি ভেঙে ফুলের রঙ ও সুবাস ছড়িয়ে দেবে প্রশান্তি, সৌন্দর্য ও ইতিবাচকতা। সব মিলিয়ে গোলাপ প্রদর্শনীটি কেবল একটি ফুলের আয়োজনই নয়, বরং এটি ছিল সবুজ ও সৃজনশীল জীবনের এক অনুপ্রেরণামূলক বার্তা।

Link copied!