মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় একটি মাজারকে কেন্দ্র করে অনিয়মের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিকের ওপর হামলা, মারধর ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, মাজারকেন্দ্রিক কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ড প্রকাশ পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায় এবং তাকে এলাকায় সাংবাদিকতা করতে নিষেধসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার ১ নম্বর খলিলপুর ইউনিয়নের কাঠারাই গ্রামের বাসিন্দা রিপন মিয়া (২৯) পেশায় একজন সাংবাদিক। তিনি দৈনিক বাংলাদেশ সামাচার পত্রিকার মৌলভীবাজার সদর প্রতিনিধি এবং মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সদস্য।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি সদর উপজেলার সাটিয়া শাহ মদরিছ (রহ.) মাজারে ওরস উপলক্ষে গান-বাজনা ও কিছু বিতর্কিত আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আলেম-উলামা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর প্রতিবাদে স্থানীয়রা একটি সভা করেন। একজন সাংবাদিক হিসেবে রিপন মিয়া ওই সভার ভিডিও ধারণ করে গত ৫ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই মাজারকেন্দ্রিক একটি পক্ষ এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, পরদিন ৬ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে সাটিয়া শাহ মদরিছ (রহ.) মাজারের সামনে অবস্থানকালে অভিযুক্ত কামাল মিয়া (৩৫), আশিক মিয়া (৫৫), শামীম মিয়া এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে। এ সময় তারা ভিডিও প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে গালিগালাজ শুরু করে এবং একপর্যায়ে তাকে মারধর করে। অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং মারধরের একপর্যায়ে তার পকেটে থাকা প্রায় ২০ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে নেয়।
এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান তিনি।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক অভিযোগে উল্লেখ করেন, হামলাকারীরা তাকে এলাকায় সাংবাদিকতা করতে না দেওয়ার হুমকি দেয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ভিডিও বা সংবাদ প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও সমাধান না হওয়ায় তিনি মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, একজন সাংবাদিকের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য অশনিসংকেত। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহল মনে করছে, কোনো ঘটনার তথ্য প্রকাশ করায় সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :