তারাকান্দায় ঐতিহাসিক কৈলাপুরী বিল দখলের চেষ্টা, রাতের আঁধারে পুকুর খনন

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার ১০ নং বিসকা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক কৈলাপুরী বিল দখলের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। সরকারি খাস জমি হিসেবে পরিচিত বিলটির মাঝখানে রাতের আঁধারে এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে পুকুর খনন করে দখলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে বিলের প্রাকৃতিক মাছের প্রজননক্ষেত্র, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় দরিদ্র মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।

শনিবার এলাকাবাসীর পক্ষে মো. মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর দাখিল করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিসকা ইউনিয়নের মেছেড়া ও কাকচর মৌজায় বিস্তৃত কৈলাপুরী বিলটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক জলাশয় হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় অসচ্ছল ও ভূমিহীন মানুষ বিল থেকে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। পাশাপাশি বিলটি ওই অঞ্চলের প্রাকৃতিক মাছের অন্যতম প্রধান প্রজননক্ষেত্র হিসেবেও পরিচিত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে একটি চক্র রাতের অন্ধকারে বিলের মাঝখানে এক্সকাভেটর দিয়ে পুকুর খনন করছে। এর মাধ্যমে তারা সরকারি খাস জমি নিজেদের দখলে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

গ্রামবাসীদের আশঙ্কা, বিলটি দখল হয়ে গেলে প্রাকৃতিক মাছের নিরাপদ আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে যাবে। এতে শতাধিক পরিবারের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এলাকাবাসীর পক্ষে আবেদনকারী মাসুদ রানা বলেন, “কৈলাপুরী বিল আমাদের এলাকার প্রাণ। এটি দখল হয়ে গেলে সাধারণ মানুষ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। তাই দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরে সেখানে গিয়ে মাটি কাটা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি বিল দখলের কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

Link copied!