ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত যুবকের বিরুদ্ধে মাদক ও চুরির অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কসবা থানার ওসি নাজনীন সুলতানা।
নিহত মো: দ্বীন ইসলাম (৩০) শিমরাইল গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ নামের একটি ফেসবুক পেইজ পরিচালনা করতেন। বেশ কয়েকদিন ধরে ওই পেইজ থেকে মাদক পাচার নিয়ে ভিডিও ফুটেজ প্রচার করা হচ্ছিল বলে জানান স্বজনরা।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, সকালে সংঘবদ্ধ একটি দল দ্বীন ইসলামকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তাকে পিটিয়ে কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলায় একটি নদীর পাড়ে ফেলে রাখা হয়। পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে তাকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দ্বীন ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে বাবা শফিকুল বলেন, গত ২২ ফেব্রুয়ারি দ্বীন ইসলাম ফেসবুকে দেওয়া বক্তব্যে তার উপর হামলা হলে বা তাকে হত্যা করা হলে কারা দায়ী থাকবে তাদের নাম বলেন।
কয়েকদিন ধরে মাদক কারবারিসহ অপরাধীদের বিরুদ্ধে ভিডিও প্রকাশ করায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি তার।
রাত সাড়ে ৮টায় ওসি নাজনীন সুলতানা বলেন, কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, দ্বীন ইসলামের এলাকাভিত্তিক ও নিজেদের গোষ্ঠীর মধ্যে একটা দ্বন্দ্ব ছিল। তার বিরুদ্ধে কসবা থানা ও বিভিন্ন জায়গায় মাদক ওুরিসহ ১০টি মামলা রয়েছে। তবে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ অভিযোগ দেয়নি।
রাত পৌনে ৯টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার শাহ মো: আব্দুর রউফ বলেন, “দ্বীন ইসলামকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পেটানো হয়। তবে পিটিয়ে হত্যা করে ফেলবে এটা কোনোভাবেই ঠিক না। দ্বীন ইসলাম মাদক নিয়ে লেখালেখি করতেন বলে জানতে পেরেছি।”
দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।
আপনার মতামত লিখুন :