কক্সবাজার সৈকতে ঈদ আনন্দে প্রায় চার লাখ পর্যটকে মুখরিত

মনসুর আলম মুন্না , স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার

প্রকাশিত: ২৫ মার্চ, ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম

ঈদের টানা ছুটি শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে পর্যটক কমতে শুরু করেছে। গত ২২ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত তিন দিনে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ভ্রমণে এসেছেন অন্তত চার লাখের কাছাকাছি পর্যটক।

মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে, ছুটি শেষ হলেও এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটকের উপস্থিতি রয়েছে। সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত এলাকা জুড়ে পর্যটকরা উপভোগ করছেন সমুদ্রের অপার সৌন্দর্য।

তারা সৈকতের বিস্তৃত বালিয়াড়িতে ঘোরাঘুরির পাশাপাশি বিচবাইক, ঘোড়া ও জেটস্কিতে চড়ে আনন্দে মেতেছেন। কেউ কেউ কিটকটে বসে পরশ অনুভব করছেন সাগরের হিমেল হাওয়ার। অনেকেই ব্যস্ত নিজেদের ভ্রমণের স্মৃতিকে ক্যামেরাবন্দি আর সেলফি তুলতে। তবে অধিকাংশ পর্যটকের গন্তব্য সাগরের লোনাজলে গা ভাসিয়ে অবসাদ অবগাহনে।

পর্যটকরা বলছেন, ঈদ উদযাপনের পাশাপাশি প্রকৃতির নির্মল ছোঁয়া পেতে কক্সবাজার ছুটে আসা। নির্বিঘ্নে ঘুরতে পেরে খুশি তারা।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রায়হানুর রহমান বলেন, ঈদের পরের দিন ২২ মার্চ কক্সবাজারে আসি। আজ (মঙ্গলবার) রাতে ফিরে যাবেন। এখানে এসে দেখি সাগরতীরে পা ফেলার জায়গা নেই। এত মানুষ, এত হৈ হুল্লোড় আগে দেখিনি। খুব আনন্দ লাগছে এত মানুষের আনন্দ দেখে।

সাত বন্ধু মিলে ঈদ আনন্দ করতে সিলেট থেকে ছুটে এসেছেন কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে। তাদের মধ্যে ছয়জন সেলফি, নোনাজলে সমুদ্রস্নান আর দুষ্টুমিতে মেতেছেন। তাদের একজন রাহাতুল ইসলাম ব্যস্ত ড্রোন ওড়ানো নিয়ে। কথা হয় তার সঙ্গে। রাহাতুল ইসলাম বলেন, ড্রোন উড়িয়ে দেখছি কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে কত মানুষ হবে। কিন্তু ড্রোন যতই উপরে তুলছি দেখছি ততই মানুষ। মনে হয়, দুই লাখের কাছাকাছি মানুষ হবে। ড্রোনের ছবি ও ভিডিও নিতে খুব ভালো লাগছে।

পরিবারের পাঁচ সদস্য নিয়ে ঢাকার মিরপুর থেকে এসেছেন ব্যাংকার আব্দুস সোবহান। তিনি বলেন, ঈদের দিন কক্সবাজারে এসেছি, কিন্তু বৃষ্টির কারণে তেমন ভালো লাগেনি। আজকে দেখি চমৎকার আবহাওয়া। খুব বেশি আনন্দ করছি।

কক্সবাজার আবাসিক হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম জানান, তিন দিনে অন্তত চার লাখের কাছাকাছি পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছেন। মঙ্গলবার থেকে কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে শুক্রবার পর্যন্ত কম-বেশি পর্যটক থাকবে।

ঈদের ছুটিতে বিপুল সংখ্যক পর্যটক থাকলেও স্নানরত অবস্থায় সৈকতে কোনো অঘটন ঘটেনি বলে জানান, সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার প্রজেক্ট কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ।

তিনি বলেন, প্রতিদিন লাখের বেশি পর্যটকের সমুদ্রস্নানে নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কারণ লাখের বেশি পর্যটকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে মাত্র ২৭ জন কর্মী। তারপরও চেষ্টা ছিল। পর্যটকদের সমুদ্রস্নানে নিরাপত্তা দিতে পেরেই খুশি।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক জাহেদ হোসেন বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সৈকতের বালিয়াড়ি থেকে হোটেল মোটেল জোন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। এটা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, কক্সবাজার সৈকতের পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি, দরিয়ানগর, ইনানী ও পাটুয়ারটেকের পাথুরে সৈকত, রামুর বৌদ্ধ বিহার, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক ও শহরের বার্মিজ মার্কেটসহ জেলার সবকটি বিনোদন কেন্দ্র আগত পর্যটকরা ভ্রমণ করেছেন। যেখানেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

Advertisement

Link copied!