মিরসরাইয়ে মাতৃকা হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা: ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে গর্ভে সন্তান নেই বলে ওষুধ প্রদান

নুর হোসেন মিয়া , মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২৫ মার্চ, ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মাতৃকা হাসপাতালে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছেন আফিফা আক্তার (২৪) নামের এক প্রসূতি নারী। ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়া সত্ত্বেও গর্ভে সন্তান নেই বলে ভুল তথ্য দিয়ে ওই নারীকে রক্তক্ষরণ বন্ধের ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডা. মহেসিনা ইয়াসমিন সাথীর বিরুদ্ধে। বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে ভুক্তভোগী পরিবার হাসপাতালে গিয়ে এ নিয়ে চিকিৎসকের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে।

ভুক্তভোগী আফিফা আক্তারের স্বামী মোর্শেদ আলম জানান, গত ২৫ জানুয়ারি প্রথমবার স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য মাতৃকা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তখন ডা. মহেসিনা ইয়াসমিন সাথী আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট দেখে জানান যে গর্ভে কোনো সন্তান নেই। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ (ব্লিডিং) বন্ধের জন্য তিনি বিভিন্ন ধরনের কড়া ডোজের ওষুধ লিখে দেন।

সন্দেহ হওয়ায় পরিবারটি রোগীকে অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, আফিফার গর্ভে সন্তান রয়েছে। পুনরায় আজ বুধবার (২৫ মার্চ) মাতৃকা হাসপাতালে এসে ডাক্তারকে বিষয়টি জানালে তিনি স্বীকার করেন যে গর্ভে সন্তান আছে। ভুক্তভোগী মোর্শেদ আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাসপাতালের যদি এমন গাফিলতি হয়, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? ভুল তথ্যে দেওয়া ওষুধের কারণে সন্তানের ক্ষতি হলে এর দায় কে নিত?”

অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মহেসিনা ইয়াসমিন সাথী নিজের ভুল স্বীকার করলেও দায় চাপিয়েছেন যন্ত্রের ওপর। তিনি বলেন, “এটি হাসপাতালের আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিনের ভুল ছিল। রোগীর অতিরিক্ত ব্লিডিং হচ্ছিল, তাই ওষুধ দেওয়া হয়েছে। তবে যে ওষুধ দেওয়া হয়েছে তাতে গর্ভের সন্তানের কোনো সমস্যা হবে না।”

মাতৃকা হাসপাতালের পরিচালক নাছির উদ্দীন জানান, “হাসপাতালে নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হচ্ছে। কারিগরি ত্রুটির কারণে এমনটি হতে পারে। আশা করি ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল আর হবে না।”

একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রসূতি সেবার নামে এমন চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Advertisement

Link copied!