বান্দরবানে হরিণ শিকারের মহোৎসব, বন বিভাগের নীরবতার অভিযোগ

মোঃ হাসান , বান্দরবান, জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২৫ মার্চ, ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম

বান্দরবানের পাহাড়ি বনাঞ্চলে হরিণ শিকারের এক অঘোষিত মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের নীরবতার কারণে বনের নিরীহ প্রাণীগুলো বিলুপ্তির পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, বান্দরবান বন বিভাগের আওতাধীন সদর রেঞ্জের সুয়ালক ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কাইচতলী তুলাতুলি বাজার থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পূর্বে চালিগাটা নামক পাহাড় এলাকায় নিয়মিত হরিণ শিকার করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বনের হরিণ ধরে জবাই করে মাংস ভাগ-বাটোয়ারা ও বিক্রি করা হচ্ছে প্রকাশ্যেই।

স্থানীয়দের দাবি, কয়েকদিন পরপরই এলাকার একটি সংঘবদ্ধ চক্র হরিণ ধরে জবাই করে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। এতে করে বনটি ধীরে ধীরে হরিণশূন্য হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে মা হরিণ শিকার করার অভিযোগ উঠেছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।

সরেজমিনে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, শীত মৌসুমের শুরু থেকেই প্রতিদিন এমন শিকার চলছে। সর্বশেষ, ২৫শে মার্চ দুইটি মা হরিণ জবাই করে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ বন বিভাগ এ বিষয়ে রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নুর মোহাম্মদের ছেলে মো. হোসেন প্রকাশ জাহেদ (২৮)-এর নেতৃত্বে একটি দল সক্রিয় রয়েছে। তার সঙ্গে একই এলাকার মো. ফরিদুল আলম, মো. নুর মোহাম্মদ, মো. আলী আহাম্মদ, আব্দু রহিম, মাহবুব মিস্ত্রি সহ প্রায় ১৫-২০ জন জড়িত। তারা হরিণ ধরার জাল ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে নিয়মিত শিকার চালিয়ে যাচ্ছে। পরে মাংস নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় এবং কিছু অংশ বিক্রি করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, "প্রতিদিনই এরা বনের মা হরিণ ধরে জবাই করছে। বন বিভাগ সব জানে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয় না। প্রতিদিন অন্তত এক-দুইটি হরিণ শিকার করা হচ্ছে।"

বন বিভাগের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় প্রায়ই তারা অনুপস্থিত থাকে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. হোসেন প্রকাশ জাহেদ মুঠোফোনে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, "আমি এই কাজে জড়িত নই।"

এ বিষয়ে বান্দরবান সদর রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বন উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বালাঘাটা) অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মো. সাইফুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তিনি কারো ফোন রিসিভ করেন না।

এ বিষয়ে বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি বলেন, "বনাঞ্চলে অবৈধভাবে হরিণ শিকার ও বন্যপ্রাণী নিধনের বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি।"

অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বান্দরবান বন বিভাগের এক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, সদর রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম নিজের মতো করে চলেন এবং কারো কথার তোয়াক্কা করেন না।

এ বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলামকেও একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Advertisement

Link copied!