কক্সবাজারে ব্যবসায়ী জিয়াকে একের পর এক মামলায় হয়রানির অভিযোগ

আতিকুর রহমান , ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৭ মার্চ, ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম

কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ইউনিয়নে অবৈধভাবে চিংড়ি ঘের ও লবণের মাঠ দখলে নিতে জিয়াউল হক জিয়া নামের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। একটি প্রভাবশালী চক্রের ইন্ধনে এই ষড়যন্ত্র চলছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

ভুক্তভোগী জিয়ার স্ত্রী তাজনিম রেশমী গত ২৪ মার্চ সন্ধ্যায় কক্সবাজার প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে পরিবারের ওপর চলমান নির্যাতনের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, “আমার স্বামী মোস্তাক মিয়া চৌধুরীর কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে বৈধভাবে চিংড়ি ও লবণের ব্যবসা করছেন। কিন্তু গত ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যু ও ডাকাত চক্র আমাদের ঘের দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই চক্রের পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ওয়াজ করিম বাবুলের ইন্ধন রয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রিয়াদ, কালু, মমতাজ, নুরুল আলমসহ একটি মাফিয়া গ্রুপ জিয়াউল হককে কারাগারে আটকে রেখে ঘের দখলের চক্রান্ত করছে। রেশমী বলেন, “চৌফলদন্ডীতে চুন থেকে পান খসলেই এখন আমার স্বামীর নাম জড়িয়ে মামলা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালিয়ে বড় অংকের চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে তারা।”

সংবাদ সম্মেলনে রেশমী বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম নতুন সরকারের সময়ে ন্যায়বিচার পাবো। কিন্তু এখনো মিথ্যা মামলা ও হয়রানি থামেনি। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাই, আমার স্বামীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক এবং আমাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ মার্চ (রোববার) দুপুরে চৌফলদন্ডী ৩নং ওয়ার্ডের মাঝের পাড়া বাজারে ‘জকির বাহিনী’র প্রধান জকির অস্ত্রসহ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা চালায়। এসময় স্থানীয় জনতা তাকে ধাওয়া করে ৪নং ওয়ার্ডের আল-আকসা মসজিদের সামনে থেকে অস্ত্রসহ হাতেনাতে আটক করে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে কক্সবাজার সদর থানার এসআই নুরুল আমিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম জকিরকে আটক করে নিয়ে যায়।

তবে স্থানীয় বাসিন্দা আমির সোলতান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা ডাকাত জকিরকে অস্ত্রসহ ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিলাম, কিন্তু পুলিশ তাকে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার না দেখিয়ে পুরনো একটি ওয়ারেন্টে জেলে পাঠিয়েছে। উল্টো জকিকে ফাঁসানোর মিথ্যা অভিযোগে জিয়াউল হক জিয়াসহ নিরীহ মানুষদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও সাজানো মামলা দেওয়া হয়েছে (মামলা নং- জিআর ৬৩/২০২৬ ও ৬৪/২০২৬)।”

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সমি উদ্দিনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Advertisement

Link copied!