বান্দরবানের পাহাড়ি বনাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ হরিণ শিকারের ঘটনায় অবশেষে অভিযান চালিয়েছে বন বিভাগ। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশের পর মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে বন বিভাগ ও সদর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে চারজনকে আটক করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে রান্না করা হরিণের মাংস জব্দ করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—কাইচতলী তুলাতুলি এলাকার বাসিন্দা দিল মাহাম্মুদ (৪৪), তাঁর ছেলে আবু তাহের (১৮), নুরুল ইসলামের ছেলে মো. যোবায়ের (২৭) এবং আব্দুস সালামের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (১৮)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর রেঞ্জের আওতাধীন সুয়ালক ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাইচতলী তুলাতুলি বাজার থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পূর্বে চালিগাটা পাহাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র হরিণ শিকার করে আসছিল। তারা বনের হরিণ শিকার করে জবাই করার পর মাংস নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা ও বিক্রি করত বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত ২৫ মার্চ (বুধবার) দুটি মা হরিণ জবাই করে বিক্রি করা হয়। এরপর গতকাল আবারও একটি মা হরিণ শিকারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বন বিভাগ ও পুলিশ অভিযানে নামে। বনাঞ্চল থেকে মা হরিণ শিকারের এই প্রবণতা বন্যপ্রাণীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।
অনুসন্ধানে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও ১৫ থেকে ২০ জনের তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শফিক আলম, মোহাম্মদ আলম, ফরিদুল আলম, নুরুল আলম, নুরু, কাইয়ুম, আলী আহাম্মদ ও আমির হোসেনসহ একটি বড় দল হরিণ ধরার বিশেষ জাল ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে নিয়মিত এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, “বন্যপ্রাণী রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। যারা এ ধরনের বর্বরোচিত শিকারে জড়িত, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। এই অসাধু চক্রকে নির্মূল করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
আপনার মতামত লিখুন :