টেকনাফ স্থলবন্দর সচলের পথে, ১১ মাস পর আশার আলো

আবু হুমাইর , টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম

দীর্ঘ ১১ মাস স্থবির থাকার পর আবারও সচল হওয়ার পথে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তঘেঁষা স্থলবন্দর। একসময়ের ব্যস্ততম এই বন্দর মিয়ানমারের চলমান সংঘাতের কারণে কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছিল, যার প্রভাব পড়েছিল ব্যবসা-বাণিজ্য ও শ্রমনির্ভর জীবিকায়।

এক সময় ভোর হলেই বন্দরে ভিড় জমাতো পণ্যবোঝাই ট্রাক, নৌযান ও ব্যবসায়ীদের আনাগোনা। কিন্তু গত প্রায় এক বছর ধরে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। বন্দরটি নিস্তব্ধ হয়ে পড়ায় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি শ্রমিক, মাঝি ও দিনমজুরদের জীবনেও নেমে আসে অনিশ্চয়তা। একইসঙ্গে সরকার হারায় বিপুল অঙ্কের রাজস্ব।

এমন পরিস্থিতিতে সোমবার (৬ এপ্রিল) টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শনে আসেন নৌ–পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মোঃ রাজিব আহসান।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, বন্দর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা এবং তাদের দাবির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে বন্দরটি পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে তিনি উল্লেখ করেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। বিশেষ করে জান্তা সরকার ও সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির অবস্থান বন্দর কার্যক্রম চালুর ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

এদিকে ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বন্দরটি পুনরায় চালুর বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। তারা আশা করছেন, দ্রুতই আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।

অন্যদিকে শ্রমিকরা বলেন, দীর্ঘদিন বন্দর বন্ধ থাকায় তারা চরম কষ্টে দিন কাটিয়েছেন। আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে পড়ায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে তাদের। তাই দ্রুত বন্দর কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ সময় পর বন্দরটি সচল হওয়ার উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও, পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে এখনো নানা চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠা জরুরি।

Link copied!