কালিহাতীতে চাঁদা না পেয়ে খননকাজের ভেকুতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ

মনির হোসেন , কালিহাতী(টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় নদী খননকাজে নিয়োজিত একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক্সেভেটর (ভেকু) ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, চাঁদা না পেয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে, যাতে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় কালিহাতী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

জানা যায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত বংশী নদীর ২০ কিলোমিটার খননকাজ পায় ‘মেরিন হাউজ ড্রেজিং-এমসিএল জেভি’ নামে একটি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। খননকৃত মাটি সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় ভূমি মালিকদের থেকে জমি লিজ নিয়ে কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। শর্ত অনুযায়ী, স্থানীয় মসজিদ, মাদ্রাসা ও গোরস্থানে মাটি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী গত ১৩ মার্চ রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদনের প্রেক্ষিতে একটি মসজিদের জন্য মাটি সরবরাহ করছিল স্থানীয় লিজ কমিটি।

অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় বিএনপি নেতা আশরাফসহ বেশ কয়েকজন বেশ কিছুদিন ধরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন এবং কাজ বন্ধের হুমকি দিচ্ছিলেন। ১৩ মার্চ রাতে মসজিদে মাটি ফেলার খবর পেয়ে তারা উপজেলা প্রশাসনকে ‘মাটি বিক্রি হচ্ছে’ মর্মে ভুল তথ্য দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চলে যাওয়ার পর, রাত আনুমানিক ১টার দিকে ১০-১৫ জন লোক দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা চালায়। তারা ভেকুর গ্লাস ও ইঞ্জিন ভাঙচুর করে ডিজেল চুরি করে এবং একপর্যায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে গ্রামবাসী ও শ্রমিকদের সহায়তায় আগুন নেভানো হয়।

জমি লিজ কমিটির সদস্যরা জানান, বিএনপির এমপি প্রার্থীর লোক পরিচয় দিয়ে কিছু ব্যক্তি সুবিধা দাবি করে আসছিলেন। সুবিধা না পেয়ে তারা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার নাঈম ও জাহিদ বলেন, "আমাদের কাছে বিভিন্নভাবে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। চাঁদা না দেওয়ায় তারা ভেকু পুড়িয়ে আমাদের ১২ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার ও জানমালের নিরাপত্তা দাবি করছি।"

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আশরাফ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে সরকারি মাটি বিক্রি করা হচ্ছিল, যা প্রশাসন গিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। ভাঙচুরের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।"

কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, সরকারি মাটি বিক্রির কোনো এখতিয়ার কারো নেই। মাটি বিক্রির খবর পেয়ে তিনি তা বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

কালিহাতী থানার এসআই ওসমান গনি জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

Link copied!