“পোল্ট্রি শিল্প ধ্বংসের চক্রান্ত রুখে দাও, বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দাও, উৎপাদিত ডিমের ন্যায্যমূল্য দিতে হবে”—এই দাবিতে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে প্রতিবাদ ও আলোচনা সভা করেছেন স্থানীয় পোল্ট্রি খামারিরা। বুধবার (০৮ এপ্রিল) সকালে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন, ভূঞাপুর শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা খামারি ও ব্যবসায়ীরা সভায় তাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, মুরগির খাদ্য ও ওষুধের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়লেও ডিম উৎপাদনের তুলনায় বিক্রয় মূল্য অনেক কম। ফলে সাধারণ খামারিরা মারাত্মক আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন। লোকসান গুনতে গুনতে উপজেলার অনেক খামারি ইতোমধ্যে তাদের খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও আমিষের চাহিদায় বড় প্রভাব ফেলছে।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কৃত্রিমভাবে ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এই সিন্ডিকেটের কারণেই প্রান্তিক খামারিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অথচ ভোক্তাদের চড়া দামে ডিম কিনতে হচ্ছে। বক্তারা অবিলম্বে এই অসাধু চক্রকে চিহ্নিত করে বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার দাবি জানান।
দাবি ও হুঁশিয়ারি:
পোল্ট্রি খাতকে রক্ষায় বক্তারা সরকারের কাছে তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন:
১. উৎপাদিত ডিমের উৎপাদন খরচের সাথে সংগতি রেখে ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ।
২. ফিড ও ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর বাজার মনিটরিং।
৩. পোল্ট্রি শিল্প রক্ষায় সহজ শর্তে ঋণ ও সরকারি প্রণোদনা প্রদান।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও বিপুল কর্মসংস্থানের এই খাতকে টিকিয়ে রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পোল্ট্রি শিল্প সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। আলোচনা সভায় অ্যাসোসিয়েশনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ উপজেলার কয়েকশ প্রান্তিক খামারি উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :