বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকল্প নেই - ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস।

ফয়সাল মবিন পলাশ , ভ্রাম্যমাণ সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। এখনকার সময় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ। একটি দেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে যত বেশি উন্নত, সে দেশ তত বেশি এগিয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা-এ আয়োজিত জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এখন এক গুরুত্বপূর্ণ ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আছে। দেশের অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায় সংগ্রামের ইতিহাস। তবে আমি আজকের এই আয়োজন দেখে উপলব্ধি করেছি-বাংলাদেশের সামনের দিনগুলো অপার সম্ভাবনায় ভরপুর।”

তিনি আরও বলেন, ছোট ছোট স্কুলের শিক্ষার্থীরা যে অসাধারণ উদ্ভাবনী কাজ করছে, তা সত্যিই আশাব্যঞ্জক। তাদের এই সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে উৎসাহিত করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করতে হবে। তবেই তারা ভবিষ্যতে আরও নতুন নতুন আবিষ্কারে অনুপ্রাণিত হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নারীর অংশগ্রহণে আশাবাদ ড. সায়মা ফেরদৌস বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতে শিক্ষা, নারী ও পরিবেশ বিষয়েও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

তিনি বলেন, “সাধারণভাবে মনে করা হয়, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নারীরা কিছুটা পিছিয়ে থাকে। কিন্তু আজ এখানে এসে দেখলাম, সেই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। বরং মেয়েরাই বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্পে এগিয়ে রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যে সুযোগ-সুবিধা পায়, গ্রামের স্কুলগুলো তা অনেক ক্ষেত্রে পায় না। তাই শিক্ষকদের দায়িত্ব আরও বেশি। নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে গ্রামীণ শিক্ষার্থীদেরও এগিয়ে নিতে হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় “উদ্ভাবন নির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি”-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা-এ আয়োজন করা হয় ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ, বিজ্ঞান মেলা এবং ১০ম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

সুজন চন্দ্র রায়-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- সজীব তালুকদার ডা. মেসবাউদ্দিন সৈয়দ মোহাম্মদ তৈয়ব হোসেন অ্যাডভোকেট আকতার হোসেন মোজাম্মেলহক চৌধুরী প্রমুখ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। পরে অতিথিরা মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

আয়োজকরা জানান, এ মেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ও বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞানচর্চার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণার প্রতি উৎসাহিত করবে।

 

 

 

Advertisement

Link copied!