মাগুরার শালিখা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাঃ হেনায়ারা খানমের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে এক শিক্ষিকার বিদেশ (ভারত) ভ্রমণের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই জালিয়াতি চক্রে উপজেলা শিক্ষা অফিসের একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও একজন অফিস সহকারীর সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার পুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রূপকুমারী মন্ডল ব্যক্তিগত কারণে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। সরকারি বিধি অনুযায়ী বিদেশ গমনের অনুমতিপত্র পেতে তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসে আবেদন করেন। অভিযোগ রয়েছে, এই আবেদনের চূড়ান্ত অনুমোদনে শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষর জাল করে একটি ভুয়া অনুমতিপত্র তৈরি করা হয়।
এই জালিয়াতি প্রক্রিয়ায় উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শাহরিয়ার রুমি এবং অফিস সহকারী সমীর কুমারের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষিকা রূপকুমারী মন্ডল জানান, তিনি অনুমতির জন্য আবেদন করার পর অফিস সহকারী সমীর কুমার তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। টাকা দেওয়ার পর তাঁকে একটি অনুমতিপত্র দেওয়া হয়। ভারত ভ্রমণ শেষে দেশে ফেরার পর তিনি জানতে পারেন যে, তাঁর হাতে পাওয়া ওই অনুমতিপত্রের স্বাক্ষরটি জাল ছিল।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাঃ হেনায়ারা খানম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “আমার স্বাক্ষর জাল করে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতিপত্র প্রদান করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এটি একটি গুরুতর অপরাধ। যারা এই জালিয়াতির সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানের লিখিত অনুমতি বাধ্যতামূলক। কিন্তু শালিখা শিক্ষা অফিসের এই অসাধু চক্র নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এমন জালিয়াতি চালিয়ে আসছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রক্রিয়া চলছে। ভবিষ্যতে এমন জালিয়াতি রোধে দাপ্তরিক নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :