ছাত্র রাজনীতির পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে শিক্ষার্থীদের দুপক্ষের হট্টগোল

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সদ্য যোগদান করা উপাচার্যের মতবিনিময় সভায় হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশের সঙ্গে ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থীদের এই হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। এসময় উত্তেজনা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শরীফ হোসেন গ্যালারিতে এই ঘটনা ঘটে। পরে দু’পক্ষই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচে অবস্থান নিয়ে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে যবিপ্রবির ১০৩তম রিজেন্ট বোর্ডের সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল যবিপ্রবিতে পঞ্চম উপাচার্য হিসাবে চার বছরের জন্য যোগদান করেন অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। যোগদানের পর পূর্ব ঘোষিত অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নতুন উপাচার্যের মতবিনিময়ের আয়োজন করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সে অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে শুরু হয় মতবিনিময়। সভায় ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে রাজনীতি করতে চাইলে শিক্ষার্থীদের একাংশ প্রতিবাদ জানায়। এসময় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন।

অন্যদিকে ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থীরাও অন্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য ‘গুপ্ত গুপ্ত’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে দুইপক্ষের বাগ্‌বিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি স্লোগানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা উভয়পক্ষকে নিবৃত্ত করতে গেলে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে।

এতে অনুষ্ঠান শেষ না কলে নিজ দপ্তরে চলে যান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। পরে দুইপক্ষই বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে চলে যান প্রশাসনিক ভবনের নিচে। সেখানে ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থীরা ‘ভিসি স্যারের অপমান, সইবো না, সইবো না’, ‘ক্যাম্পাসে মববাজি, চলবে না, চলবে না’ বলে নানা স্লোগান দিতে থাকে।

এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশের প্রশাসনিক ভবনের নিচে ‘ক্যাম্পাসে রাজনীতি চলবে না, চলবে না’ বলে স্লোগান দিতে থাকে।

কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, সদ্য যোগদান করা উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মান উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের মতামত জানতে চান। সেখানে ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তখন আমরা প্রতিবাদ জানাই।  ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির কারণে হত্যা, নির্যাতন টেন্ডারবাজির মতো ঘটনা ঘটেছে। ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল, তেমনই থাকবে। একটি গোষ্ঠী অপ্রীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করে উপাচার্য স্যারকে উঠে যেতে বাধ্য করেছেন।

ছাত্রদল সমর্থিত খাদ্য, পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সালেক খান বলেন, ‘আমরা রাজনীতি প্রসঙ্গ টেনে আনিনি। শিক্ষার্থীদের দাবি দাওয়া বিষয়ে নানা বক্তব্য দিই। সেখানে যারা বিগত সময়ে মববাজি করেছে; ঠিক তারাই আজ নতুন ভিসিকে মব সৃষ্টি করে অপমান করেছে। নানা স্লোগানের মধ্যে গ্যালারির দরজা বন্ধ করে আমাদেরসহ নবনিযুক্ত উপাচার্য স্যারকে জিম্মি করে রাখে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে যারা গুপ্ত; তারাই ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। ছাত্রদল ‘গুপ্ত’ কিংবা ‘মবে’ বিশ্বাসী না। ভিসি স্যারকে যারা মব সৃষ্টি করে অপমান করেছে তাদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’

যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী এই ক্যাম্পাসে সব প্রকার দলীয় রাজনীতি সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। তার‌ই প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক ব্যানার বা প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কোনো সুযোগ এখানে নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে সবরকম বিশৃঙ্খল আচরণ ও মববাজি দ্রুত সময়ের মধ্যেই সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Advertisement

Link copied!