মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোর দোরগোড়ায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার স্তূপ এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বর্জ্য, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংকট এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতায় উপজেলা চত্বরের পরিবেশ বর্তমানে বিষিয়ে উঠেছে। পচা আবর্জনার উৎকট দুর্গন্ধে এসব দপ্তরে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, পরিসংখ্যান কার্যালয়, জাতীয় মহিলা সংস্থার তথ্যকেন্দ্র, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাচন অফিসের চারপাশ যেন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। পচা খাদ্যবর্জ্য, প্লাস্টিক, পলিথিন এবং ডাবের খোলে পানি জমে মশার অভয়ারণ্য তৈরি হয়েছে। অনেক স্থানে পুরনো নির্মাণসামগ্রী ও রাবিশ ফেলে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে থাকায় নোংরা পানি আটকে সৃষ্টি করছে তীব্র দুর্গন্ধ।
অস্বাস্থ্যকর এই পরিবেশের কারণে দপ্তরের কর্মচারীরা প্রতিনিয়ত রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। পরিসংখ্যান অফিসের তদন্তকারী আ. মালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অফিসে মশার উপদ্রব এত বেশি যে জানালা খুলে রাখা অসম্ভব। এর আগে আমি নিজেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলাম।” অভিযোগ রয়েছে, এখানকার অনেক কর্মচারীই ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুসহ নানা পানিবাহিত ও চর্মরোগে ভুগছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অভাব এবং নির্দিষ্ট ডাস্টবিন না থাকায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সামনে প্রায় এক বছর ধরে একটি গাছ ভবনের ওপর পড়ে থাকলেও তা সরানোর কোনো উদ্যোগ নেই। এছাড়া কার্যালয়গুলোর সামনে থাকা পানির নলকূপগুলো অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকটে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এ বিষয়ে কোনো কোনো দপ্তর স্থানীয় প্রশাসনকে দায়ী করছে, আবার কেউ কেউ একে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। সংশ্লিষ্টদের এই রশি টানাটানিতে ভোগান্তি বাড়ছে সাধারণ মানুষের।
পরিবেশ সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত এই আবর্জনা অপসারণ করা না হলে এটি এলাকায় বড় ধরনের মহামারি বা জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি করতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিয়ান নুরেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে নাগরিক সেবার কেন্দ্রবিন্দুতে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দূর করতে উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
আপনার মতামত লিখুন :