ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ১১ বছর পার হলেও দুই শিক্ষিকা কোনোদিন বিদ্যালয়ে আসেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে অলৌকিকভাবে হাজিরা খাতায় তাঁদের নিয়মিত স্বাক্ষর দেখা যাচ্ছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও তাঁর পরিবার।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের হালিউড়া গ্রামে ২০০২ সালে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক এই বিদ্যালয়টি স্থাপন করেন। ২০১৫ সালে তিনি সভাপতি থাকাকালীন তাঁর দুই পুত্রবধূ কামরুন নাহার সুধা এবং মাহমুদা আক্তারকে বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেন। এদের মধ্যে কামরুন নাহার প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্ত্রী এবং মাহমুদা আক্তার তাঁর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী। বিদ্যালয়টি ২০২২ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভুক্ত হয়েছে।
সরেজমিনে বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে কামরুন নাহার সুধা ও মাহমুদা আক্তারকে পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা এই দুই শিক্ষিকাকে কোনোদিন বিদ্যালয়ে দেখেনি। এমনকি হাজিরা খাতা পর্যালোচনার কথা বললে প্রধান শিক্ষক প্রথমে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত শিক্ষকদের স্বাক্ষর লক্ষ্য করা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ২০১৯ সালে এ কে এম মোশাররফ হোসেন নামে এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছিলেন প্রধান শিক্ষক।
বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও এই দুই শিক্ষিকার বেতন-ভাতা চালু করার জন্য ময়মনসিংহ জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। এ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বীকার করেন যে, একজন তাঁর স্ত্রী ও অন্যজন তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী। তিনি দাবি করেন, “তাঁরা মাঝে মধ্যে আসেন, তবে এখনো বেতন-ভাতা পান না।”
নান্দাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মফিজুল ইসলাম বলেন, “আমি নতুন এসেছি, তবে এমনটি ঘটে থাকলে তা অপরাধ।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত বিষয়টিকে ‘গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত খোঁজ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহা. নাসির উদ্দীন মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর তাঁদের বেতন-ভাতা চালুর আবেদন বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, “আগামী সপ্তাহে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
আপনার মতামত লিখুন :