ময়মনসিংহ মহিলা কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

ময়মনসিংহ মহিলা (ডিগ্রি) কলেজে সরকারি বিধিমালা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা তোয়াক্কা না করে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে পৌরনীতি ও সুশাসনের শিক্ষক ফারহানা পারভীনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পছন্দের প্রার্থীকে এই পদে বসানোর ফলে স্থানীয় সচেতন মহল এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মহানগর বিএনপি'র আহ্বায়ক এ কে এম শফিকুল ইসলামের উপস্থিতিতে নিয়োগ বৈঠকে প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠতম শিক্ষককে দায়িত্ব না দিয়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তুলনামূলক কনিষ্ঠ শিক্ষক ফারহানা পারভীনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অধ্যক্ষের পদ শূন্য হলে প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠতম শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে সেই নীতিমালার কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, কলেজে অনার্স না থাকলেও শিক্ষকদের অনার্সের নিয়োগপত্র দেখিয়ে অপ্রয়োজনীয় খণ্ডকালীন ১৮ সাল থেকে অদ্যাবধি বেতন উত্তোলন করছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আঁতাত করে অডিট হওয়া এবং না হওয়ার বিষয়ে পাঁয়তারা চলছে, বিষয়টি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও আর কোনো কলেজে অনার্স বিষয় খোলার সরকারি সিদ্ধান্ত নেই।

এদিকে পৌরনীতি ও সুশাসনের শিক্ষক মাসুমা আক্তার ও জীববিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক শাহ আজিজুর রহমান (রাসেল) ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের প্রতিনিধি হয়ে অন্য শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কলেজে আধিপত্য বিস্তার করে রামরাজত্ব কায়েম করছেন। একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফারহানা পারভীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে আসার পর তাঁর ছত্রছায়ায় খণ্ডকালীন শিক্ষকদের চাকরিচ্যুত করার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, এই অনিয়মতান্ত্রিক নিয়োগের ফলে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক চেইন অফ কমান্ড ভেঙে পড়েছে। জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের ডিঙিয়ে কনিষ্ঠ কাউকে দায়িত্ব দেওয়ায় শিক্ষার পরিবেশ ও দাপ্তরিক কাজে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও অভিভাবকরা জানান, প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং শিক্ষার মান সমুন্নত রাখতে দ্রুত এই বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে বিধি মোতাবেক যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায়, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষায় তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করবেন।

পৌরনীতি ও সুশাসনের শিক্ষক মাসুমা আক্তার ও জীববিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক শাহ আজিজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফারহানা পারভীনের কাছে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, অভিযোগগুলো তাঁর কাছে খুবই হাস্যকর। এ ব্যাপারে ডিডি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ কলেজের কর্মচারীদের সঙ্গেও কথা বলে বিষয়টি জানতে বলা হয়েছে।

ময়মনসিংহ মহিলা (ডিগ্রি) কলেজের দাতা সদস্য মির্জা ফারজানা রহমান হোসনা জানান, অ্যাডহক কমিটি থেকে শুরু করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়ে আসার পর থেকে প্রত্যেকটি সভায় আইন এবং বিধির বিপরীত যেন না হয় সে ব্যাপারে সদস্যবৃন্দকে অবহিত করেছেন। কিন্তু অন্যদের সম্মতি থাকলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের পরিপন্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেফারেন্সে এবং স্থানীয় প্রভাব দেখিয়ে জোরপূর্বক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদে ফারহানা পারভীনকে বহাল রাখার জন্য একপর্যায়ে মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী তাঁর কথা বহাল রাখেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি অসম্মতি জানিয়ে সভা বয়কট করে চলে আসেন এবং সাংবাদিকসহ বিভিন্ন দায়িত্বশীল মহলকে বিষয়টি অবগত করেন। বর্তমানে গভর্নিং বডির একজন দাতা সদস্য হিসেবে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎশাহী সদস্য মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে চান না। এটি একমাত্র গভর্নিং বডির পক্ষে চেয়ারম্যান সাহেবই বিস্তারিত বলতে পারবেন।

মহানগর বিএনপি'র আহ্বায়ক এ কে এম শফিকুল ইসলাম জানান, এর আগে দেওয়া একটি নিয়োগ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বাতিল করা হয়েছিল। প্রথমে যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তিনি জ্যেষ্ঠ না হওয়ায় সেটি বাতিল হয়ে যায়। পরে গভর্নিং বডির সভাপতির অসুস্থতার কারণে বিষয়টি কিছুটা বিলম্বিত হয়। সভাপতি সুস্থ হয়ে ফিরে আসার পর সাম্প্রতিক বৈঠকে নতুন করে আলোচনা হয়।

তিনি আরও জানান, আপাতত একজনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হবে। বর্তমান কমিটির সেই ক্ষমতা নেই। অযথা জটিলতা সৃষ্টি না করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি এ কে এম আজহারুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

Link copied!