ময়মনসিংহে দুর্নীতির সংবাদ শেয়ার করার জেরে দৈনিক নাগরিক ভাবনা পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মো. সোহেল মিয়ার (৩৬) ওপর সশস্ত্র হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ক্যাশিয়ার ইমরান মেহেদী হাসান ও তাঁর সহযোগীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে কোতোয়ালী মডেল থানায় দায়ের করা একটি লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ক্যাশিয়ার ইমরান মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির একটি সংবাদ নিজের ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেন সোহেল মিয়া। এরপর থেকেই অভিযুক্ত ইমরানসহ ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তাঁকে পোস্টটি মুছে ফেলার জন্য চাপ প্রয়োগ এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে কোতোয়ালী থানাধীন চরপাড়া নয়াপাড়া মোড় এলাকার একটি নির্জন সড়কে সোহেল মিয়ার পথরোধ করা হয়। অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, বাঁশ ও কাঠের লাঠি দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। অভিযোগে বলা হয়, প্রধান অভিযুক্ত ইমরান মেহেদী হাসান লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে সোহেল মিয়ার মাথার পেছনে আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। একপর্যায়ে প্রাণভয়ে তিনি দৌড়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন।
হামলার সময় অভিযুক্তরা সোহেল মিয়ার ব্যবহৃত ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ওই ফোনে গুরুত্বপূর্ণ পেশাগত তথ্য ও প্রমাণ সংরক্ষিত ছিল। যাওয়ার সময় হামলাকারীরা হুমকি দেয় যে, এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিলে তাঁকে হত্যা করে লাশ গুম করা হবে। পরবর্তীতে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শিবিরুল ইসলাম জানান, "ভুক্তভোগী সাংবাদিকের লিখিত অভিযোগটি আমরা গ্রহণ করেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
পেশাগত দায়িত্ব পালনের জেরে সাংবাদিকের ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় ময়মনসিংহের সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক নেতারা অবিলম্বে মূল অভিযুক্ত ইমরান মেহেদী হাসানসহ জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :