ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নিজ জেলা নোয়াখালীতে নবঘোষিত কমিটিকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে ছাত্ররাজনীতি। ‘পকেট কমিটি’ গঠনের অভিযোগ এনে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদককে জেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং ১০ নেতার গণপদত্যাগের মধ্য দিয়ে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) দুপুরে নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাকর্মীরা একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মাইজদী টাউন হল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে শহরের প্রধান সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।
বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা অভিযোগ করেন, ত্যাগী ও রাজপথের পরীক্ষিত কর্মীদের বাদ দিয়ে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন তাঁর ব্যক্তিগত অনুসারীদের দিয়ে ‘পকেট কমিটি’ গঠন করেছেন। সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ চৌধুরী বাবু অভিযোগ করে বলেন, “নাসির আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান হয়ে এখন আওয়ামী লীগের লোক দিয়ে ছাত্রদলকে ধ্বংস করতে চাচ্ছেন। অবিলম্বে এই অবৈধ কমিটি বিলুপ্ত করতে হবে।” পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিম জানান, যোগ্যদের মূল্যায়ন না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
বিক্ষোভ শেষে নোয়াখালী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ১০ জন সিনিয়র নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সাহেদ চৌধুরী বাবু, তারেক নূর, ইয়াসিন আরাফাত এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আকবর হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত কমিটি পুনর্গঠন করা না হলে নোয়াখালীতে হরতালসহ আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।
পকেট কমিটির অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল বলেন, “সবাইকে একসঙ্গে পদ দেওয়া সম্ভব নয়। যোগ্যতা ও সাংগঠনিক নিবেদনের ভিত্তিতেই কমিটি হয়েছে।” এদিকে, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের বক্তব্য নেওয়ার জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিম, সদস্য সচিব মোহাম্মদ সজীব, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন রকি প্রমুখ।
আপনার মতামত লিখুন :