ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার ফজলুল হক চৌধুরী মহিলা কলেজের প্রভাষক মোঃ হান্নান তালুকদারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের দায়ে তাঁকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। কলেজের শৃঙ্খলা রক্ষা ও শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, প্রভাষক হান্নান তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-শৃঙ্খলা অমান্য করে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে আসছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত ক্লাস ফাঁকি দেওয়া এবং কলেজের কমিটি নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাঁর উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের প্রেক্ষিতে গঠিত ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে এসব অনিয়মের সত্যতা খুঁজে পায়।
সবচেয়ে বড় অনিয়ম হিসেবে উঠে এসেছে যে, গভর্নিং বডির কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই গত ১ মার্চ ২০২৬ তারিখে তিনি তারাকান্দা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর কলেজের জমির খারিজ ভাঙার আবেদন করেন। এই আবেদনের বিষয়ে কলেজের সভাপতি মোঃ রাকিব তালুকদার বা অধ্যক্ষ হোসেন আলী চৌধুরী কিছুই জানতেন না। এছাড়া, গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে শিক্ষার্থী ভর্তির বিজ্ঞপ্তিতে তিনি অনৈতিকভাবে নিজের নাম ব্যবহার করেন।
প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকৃত নিয়মিত অধ্যক্ষ থাকা সত্ত্বেও হান্নান তালুকদার নিজেকে ‘ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মহলে অপপ্রচার চালান। এতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে এবং কলেজের ‘চেইন অফ কমান্ড’ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। শিষ্টাচার বহির্ভূতভাবে ক্ষমতা অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লিখিত সকল অপরাধ ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার দায়ে গত ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কলেজের সভাপতি মোঃ রাকিব তালুকদার ও অধ্যক্ষ হোসেন আলী চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক পত্রে হান্নান তালুকদারকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়।
এ বিষয়ে ফজলুল হক চৌধুরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হোসেন আলী চৌধুরী বলেন, “কলেজের বৈধ অধ্যক্ষ থাকা অবস্থায় এবং ম্যানেজিং কমিটিকে অবগত না করে কলেজের জমি খারিজ ভাঙার আবেদন এবং নিজেকে মিথ্যাভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দাবি করায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।”
আপনার মতামত লিখুন :