গাজীপুরে বিদ্যুতের খুঁটি কেড়ে নিল শিক্ষিকার প্রাণ

আখতার হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৫ মে, ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে সড়কের ওপর ধসে পড়া বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারালেন এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর টঙ্গী-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে সৃষ্টি হয় কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ ভয়াবহ যানজট,ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থবির হয়ে পড়ে জনজীবন।
 
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে উপজেলার শিমুলিয়া রেলগেটের পূর্ব পাশে ঘটে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির সময় সড়কের পাশের একাধিক বিদ্যুতের খুঁটি দুলতে থাকে। হঠাৎ একটি খুঁটি ভেঙে সড়কের ওপর পড়ে একটি চলন্ত অটোরিকশার ওপর। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান স্থানীয় বাসিন্দা হাসানের মেয়ে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শিউলি।
 
এক প্রত্যক্ষদর্শী দোকানদার জানান,"সবকিছু কয়েক সেকেন্ডে শেষ হয়ে গেল, খুঁটিগুলো আগে থেকেই হেলে ছিল। হঠাৎ একটা সোজা রাস্তায় পড়ে অটোরিকশাটাকে চাপা দেয়। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে থাকায় কেউ কাছে যেতেও ভয় পাচ্ছিল।”
 
দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও আতঙ্কজনক হয়ে ওঠে যখন ছিঁড়ে যাওয়া বিদ্যুতের তার পাশের একটি পুকুরে পড়ে। মুহূর্তেই পানিতে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়লে মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায়, চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে চরম আতঙ্ক। আহতদের স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
 
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সম্প্রতি স্থাপিত বিদ্যুতের খুঁটিগুলো ছিল নিম্নমানের ও দুর্বল। “খুঁটির গোড়ায় সঠিকভাবে মাটি ভরাট করা হয়নি। আমরা আগেই সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছিলাম,”। তাদের দাবি, সামান্য ঝড়েই যদি খুঁটি ভেঙে পড়ে, তবে নির্মাণকাজের মান নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই যায়।
 
বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। “প্রাথমিকভাবে ঝড়ো বাতাসকে কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে, কোনো অবহেলা থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে,”বলেন ওই কর্মকর্তা।
 
দুর্ঘটনার পরপরই টঙ্গী-সিলেট মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। কয়েক কিলোমিটারজুড়ে থমকে থাকা যানবাহনে আটকা পড়ে হাজারো যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরে পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘ চেষ্টায় ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
 
মর্মান্তিক এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, পাশাপাশি ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় জনতা। তাদের দাবি,দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় এনে ভবিষ্যতে এমন প্রাণঘাতী অবহেলার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হবে।
 

Link copied!