কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। মাঠজুড়ে পাকা ধানের ম-ম গন্ধ থাকলেও বৃষ্টির শঙ্কা আর তীব্র শ্রমিক সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপজেলার আট ইউনিয়নের হাজারো কৃষক।
শ্রমিকের মজুরি আকাশচুম্বী হলেও মিলছে না প্রয়োজনীয় জনবল। ফলে অনেক স্থানে পাকা ধান মাঠেই নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
ধান কাটার মৌসুমের শুরুতে শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকায়। বাড়তি টাকা দিয়েও চাহিদামত শ্রমিক পাচ্ছেন না গৃহস্থরা। এর মধ্যে ঘনঘন বৃষ্টির কারণে নিচু জমির ধান তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
উপজেলার চান্দলা, মাধবপুর, শিদলাই, দুলালপুর, মালাপাড়া ও সাহেবাবাদ ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ সোনালি ধানে ভরে আছে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পানিতে ধান নুয়ে পড়েছে। কৃষকেরা দল বেঁধে শ্রমিকের খোঁজে ছুটছেন, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাচ্ছেন না।
চান্দলা ইউনিয়নের সবুজ পাড়া গ্রামের কৃষক আলী হাসান বলেন,"৭০ শতক জমিতে বোরো আবাদ করেছি। অনেক কষ্টে মাত্র ১৫ শতকের ধান ঘরে তুলতে পেরেছি। বাকি ধান মাঠে পেকে আছে। শ্রমিকের যে দাম, তাতে ধান ঘরে তোলা দায় হয়ে পড়েছে। তার ওপর বৃষ্টির ভয় তো আছেই।"
একই দুশ্চিন্তার কথা জানালেন শিদলাই ইউনিয়নের পুমকারা গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, "৩০ শতক জমির ধান কাটতে পেরেছি, এখনো ৭০ শতক বাকি।
শ্রমিকের সংকটে ধান কাটতে দেরি হচ্ছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে দুই-এক দিনের মধ্যে কাটতে পারব বলে আশা করছি।"
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ব্রাহ্মণপাড়ার আটটি ইউনিয়নে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৫৮০ হেক্টর। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে এবং ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। অধিকাংশ জমির ধানই এখন কাটার উপযুক্ত।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মতিন বলেন,"উপজেলায় এবার বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। সব ইউনিয়নেই ধান পেকে গেছে। আমরা কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দিচ্ছি। শ্রমিক সংকট নিরসনে এবং কম সময়ে ধান কাটতে আমরা কম্বাইন্ড হারভেস্টর মেশিন ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ধান কাটার কাজ শেষ হবে।"
আপনার মতামত লিখুন :