ঢাকার ধামরাই উপজেলার নান্না ইউনিয়নের নান্না মৌজার দেলদার ও চাওনার চকে অবৈধভাবে কৃষিজমি থেকে মাটি কাটার ঘটনায় ভয়াবহ জমিধস দেখা দিয়েছে।
এতে পাকা ধানক্ষেত, টমেটো জমিসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ধসে পড়ে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ী চক্র গভীর গর্ত করে কৃষিজমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করে আসছে। ফলে একের পর এক কৃষিজমি ধসে পড়ছে। এতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কৃষকসহ বহু পরিবার মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাওনার চকে রশিদ এবং দেলদার চকে মাসুদ নামে দুই ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে অবৈধ মাটি কাটার এই তাণ্ডব দিন দিন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, গভীর গর্ত তৈরির কারণে পাশের জমির মাটি সরে গিয়ে পাকা ধানক্ষেত ও বিভিন্ন আবাদি জমি ধসে পড়ছে। শুধু কৃষিজমিই নয়, আশপাশের রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভয়ভীতি ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে অনেক জমির মালিককে চুপ থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর অনেকেই আতঙ্কে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও কৃষাণীরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের বছরের পরিশ্রমের ফসল চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কেউ আমাদের কথা শুনছে না। আমরা এখন দিশেহারা।”
অভিযোগের বিষয়ে মাটি ব্যবসায়ী মাসুদ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
অন্যদিকে রশিদ নামে আরেক মাটি ব্যবসায়ী বলেন,“ধামরাই উপজেলার ইউএনওকে গিয়ে বলেন।”
ধামরাই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রিদওয়ান আহমেদ রাফি বলেন, লোকেশন পাঠানোর জন্য ধন্যবাদ আপনাকে, অচিরেই মাটি ব্যবসায়িকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)কে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয়দের দাবি, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। তা না হলে ধামরাইয়ে কৃষিজমি, পরিবেশ ও জননিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
আপনার মতামত লিখুন :