বগুড়া: ১/১১-এর জরুরি অবস্থার সেই অন্ধকার সময়ে, যখন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের মুক্তি আন্দোলনে রাজপথে নামা ছিল চরম ঝুঁকির, তখন বগুড়ার আজিজুল হক কলেজ ক্যাম্পাসের অকুতোভয় ভূমিকা রেখেছিলেন তৎকালীন ছাত্রদল নেতা টোটন। দীর্ঘ সময় পর শাজাহানপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় রাজপথের সেই পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকে ঘিরেই এখন আলোচনার ঝড় উঠেছে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে।
১/১১-এর সেই ঐতিহাসিক ভূমিকা তৎকালীন ওয়ান-ইলেভেন সরকারের মাইনাস টু ফর্মুলার বিরুদ্ধে এবং দলের শীর্ষ দুই নেতার কারামুক্তির দাবিতে শাজাহানপুরের রাজপথে যে কজন ছাত্রনেতা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন, টোটন তাদের মধ্যে অন্যতম। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১/১১-এর সময়ের একটি মিছিলের ছবি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে টোটন সম্মুখ সারিতে থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রাজপথের এই লড়াইয়ের কারণে তাকে বারবার নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে, তবুও তিনি আদর্শ বিচ্যুত হননি।
তৃণমূলের দাবি: ত্যাগী নেতৃত্বের মূল্যায়ন শাজাহানপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠনের গুঞ্জন শুরু হতেই সাধারণ কর্মীদের মুখে মুখে এখন টোটনের নাম। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতে, দলকে দুঃসময়ে যারা আগলে রেখেছেন এবং রাজপথের লড়াইয়ে যাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদেরই নেতৃত্বে আনা উচিত।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন সক্রিয় কর্মী জানান: "আমরা এমন নেতৃত্ব চাই যারা দুঃসময়ে পালিয়ে যায়নি। ১/১১-এর মতো কঠিন সময়ে টোটন ভাই যেভাবে রাজপথে ছিলেন, আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামেও তাকে আমাদের পাশে প্রয়োজন। ত্যাগীদের মূল্যায়ন হলে দল আরও সুসংগঠিত হবে।"
নেতৃত্বের দৌড়ে কেন শীর্ষে টোটন?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টোটনের নেতৃত্বের আলোচনার শীর্ষে থাকার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে:
পরীক্ষিত আনুগত্য: ওয়ান-ইলেভেন থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তার সক্রিয় উপস্থিতি।
তৃণমূলের সাথে সম্পৃক্ততা: দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে সাধারণ কর্মীদের সাথে তার নিবিড় যোগাযোগ।
পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি: স্থানীয় রাজনীতিতে তার বিরুদ্ধে কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নেই।
আগামীর প্রত্যাশা শাজাহানপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলকে একটি শক্তিশালী ও গতিশীল ইউনিটে রূপান্তর করতে টোটনের মতো যোগ্য ও লড়াকু নেতার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারাও। এখন দেখার বিষয়, জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তৃণমূলের এই দাবির প্রতি কতটা সম্মান প্রদর্শন করেন।
১/১১-এর রাজপথ কাঁপানো সেই লড়াকু ছাত্রনেতা টোটনই কি হচ্ছেন শাজাহানপুর স্বেচ্ছাসেবক দলের আগামীর কান্ডারি? এই প্রশ্নের উত্তর সময়ের হাতে থাকলেও, জনমতে তিনি ইতোমধ্যেই অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :