ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়ন এর ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মুন্সির হাট-ফকির হাট সড়কের পাশে সরকারি খাস জমি ও খাল দখল করে পাকা বসতঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের কাজে বাধা, হুমকি ও অশোভন আচরণের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
গত রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মুন্সির হাট-ফকির হাট সড়কের বাম পাশে চৌকিদার বাড়ির সামনে সরকারি খাস জমি ও খালের ওপর মাটি ভরাট করে একটি পাকা ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার খাস জমি ও খালের অংশ দখল করে কয়েকটি পরিবার বসবাস করছে। বর্তমানে নতুন করে ভবন নির্মাণ করায় এলাকাজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাজ্জাকের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করেন। তিনি দাবি করেন, তিনি একজন ভূমিহীন ব্যক্তি এবং থাকার জায়গা না থাকায় সেখানে ঘর নির্মাণ করছেন। তবে জমি দখলের বিষয়ে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে রাজ্জাকের স্ত্রী ও শাশুড়ি ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তারা স্থানীয় লোকজন জড়ো করে সংবাদ সংগ্রহে বাধা প্রদান করেন এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। এতে কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, খালের জায়গা ভরাট করে একের পর এক স্থাপনা নির্মাণের কারণে পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও রয়েছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রনজিৎ চন্দ্র দাস বলেন, “সরকারি খাস জমি ও খাল দখল করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অবৈধ দখল উচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “গণমাধ্যমকর্মীদের কাজে বাধা প্রদান বা অসদাচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায়ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল সরকারি খাল ও খাস জমি রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, প্রভাবশালীরা এভাবে সরকারি সম্পত্তি দখল করলে পরিবেশ ও জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আপনার মতামত লিখুন :