বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৩নং ঘুমধুম ইউনিয়নে কোরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রতারক ও প্রভাবশালী চক্র পুকুরের জায়গায় অবৈধভাবে কোরবানির গরুর বাজার বসানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ভুয়া তথ্য সংবলিত একাধিক আবেদন জমা দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে টিভি টাওয়ার সংলগ্ন দীর্ঘদিনের বিদ্যমান বৈধ গরুর বাজারে অবৈধ হস্তক্ষেপ, জেলা পরিষদে জালিয়াতি এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
এসব অভিযোগের প্রতিবাদে সোমবার (১১ মে) সকাল সাড়ে ১২টার দিকে ঘুমধুম-তুমব্রু সড়কের বেতবনিয়ার হেডম্যান পাড়া এলাকায় স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ শতাধিক এলাকাবাসী।
বিক্ষোভ মিছিলটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। ঘুমধুম ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর বশরের নেতৃত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মাস্টার সাজেদ উল্লাহ, নুরুল আবসার, সালাউদ্দিন, রুবেলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, খাইরুল আমিন নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে গরুর বাজারকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। স্থানীয়দের দাবি, তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে। বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন দপ্তরে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য প্রদান করে বিদ্যমান বৈধ পশুর হাটকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন। এতে সাধারণ ব্যবসায়ী ও খামারিরা চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
বক্তারা আরও বলেন, টিভি টাওয়ার সংলগ্ন বিদ্যমান পশুর হাটটি বহু বছর ধরে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমোদন ও জনসাধারণের অংশগ্রহণে পরিচালিত হয়ে আসছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছর এ বাজারে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু, মহিষ ও ছাগল নিয়ে ব্যবসায়ীরা আসেন। ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে বাজারটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে বাজারটির পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউছুপ বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চাই। গরুর বাজার নিয়ে কোনো ব্যক্তি যেন একক আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে। প্রশাসন সঠিক তদন্ত করলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
আরেক এলাকাবাসী আবদুর রহিম বলেন, ঘুমধুমের মানুষ সবসময় শান্তি ও সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে। আমরা চাই বাজারটি নিয়ম-নীতির মাধ্যমে পরিচালিত হোক এবং সাধারণ ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারে।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি চক্র অবৈধভাবে পুকুর ভরাট করে পশুর হাট স্থাপনের পরিকল্পনা করছে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি হতে পারে। তারা বলেন, বর্ষা মৌসুমে ওই এলাকা জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে থাকে। সেখানে গরুর বাজার স্থাপন করলে পরিবেশ দূষণ, যানজট এবং জনদুর্ভোগ বাড়বে।
বক্তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গরুর বাজার নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম, জালিয়াতি বা অবৈধ প্রভাব বিস্তার বরদাশত করা হবে না। তারা অবিলম্বে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও খামারিরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বাজারকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে কোরবানির মৌসুমে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ খামারি ও পশু ব্যবসায়ীরা।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত খাইরুল আমিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :