প্রকৃতির আপন খেয়ালে ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রূপ বদলায় বাংলাদেশর প্রাকৃতিক পরিবেশ। ষড়ঋতুর এই দেশে গ্রীষ্মের দাবদাহের মাঝেই প্রকৃতির এক অনন্য উপহার হয়ে আবির্ভূত হয়েছে 'সোনালী ফুল' বা সোনালু। চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার গ্রামীণ জনপদ এখন এই হলুদ ফুলের চাদরে ঢাকা পড়েছে। রুক্ষ প্রকৃতিকে ছাপিয়ে এই ফুলের সোনাঝরা রূপ কেবল চোখ ধাঁধাচ্ছে না, বরং স্থানীয় জনজীবনে এনেছে এক পজিটিভ বা ইতিবাচক স্পন্দন।
উপজেলার বিভিন্ন রাস্তাঘাট, বাড়ির আঙিনা, স্কুল-কলেজ প্রাঙ্গণ এবং গ্রামীণ মেঠোপথের ধারে ধারে সোনালু গাছগুলো এখন ঝালরের মতো ঝুলে থাকা হলুদাভ সোনালু ফুলে সেজেছে। বাতাসে দোল খাওয়া এই ফুলগুলো দূর থেকে মনে হয় যেন আছড়ে পড়া কোন সোনালী ঝর্ণাধারা। স্থানীয়রা জানান, চৈত্রের শেষ দিক থেকে শুরু করে পুরো বৈশাখ মাস জুড়ে এই ফুল তার রূপের ডালি সাজিয়ে বসে।
এই মনমুগ্ধকর স্থানীয় গণমানুষের জন্য নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আশেপাশের অঞ্চল থেকে প্রকৃতিপ্রেমীরা মীরসরাইয়ে আসছেন। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে যখন জনজীবন অতিষ্ঠ, তখন এই সোনালী ফুলের বিছানা মনে এক ধরণের প্রশান্তি এনে দেয়। স্থানীয় মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই ফুলের সৌন্দর্য উপভোগের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ফুলের ছবি প্রচারের মাধ্যমে মীরসরাইয়ের পজিটিভ ইমেজ বা ইতিবাচক ভাবমূর্তি দেশের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। এটি স্থানীয় মানুষদের মধ্যে গর্বের অনুভূতি তৈরি করছে।
সোনালু ফুল বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সাথেও জড়িত। অনেক গ্রামীণ উৎসব ও মেলায় এই ফুলের ব্যবহার দেখা যায়। এই ফুলের সৌন্দর্য অনেক কবি-সাহিত্যিককে অনুপ্রাণিত করেছে। সোনালু ফুলকে মীরসরাইয়ের একটি স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।
স্থানীয় স্কুল শিক্ষক আবু জাফরের সাথে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, রাস্তাঘাট, বাড়ির আঙিনা, স্কুল-কলেজ প্রাঙ্গণ এবং গ্রামীণ মেঠোপথের ধারে ধারে সোনালু গাছগুলো এখন ঝালরের মতো ঝুলে থাকা হলুদাভ সোনালু ফুলে সেজেছে। বাতাসে দোল খাওয়া এই ফুলগুলো দূর থেকে মনে হয় যেন আছড়ে পড়া কোন সোনালী ঝর্ণাধারা। আমাদের সোনার বাংলাকে সোনারী রঙে সাজিয়েছে সোনালী ফুল।
আপনার মতামত লিখুন :