ফেনীর লালপুল বস্তি এবং রেইলগেইট এলাকায় প্রকাশ্যে চলছে মাদক বিক্রি

মোঃ জিয়া উদ্দিন , ফেনী জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১১ মে, ২০২৬, ০৮:১০ পিএম

ফেনী শহরের লালপুল বস্তি ও রেইলগেইট এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। তবে মাদকের দৌরাত্ম  দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণের বিষয়ে নানা প্রশ্ন জনমনে।

অভিযোগ রয়েছে এসকল জায়গা থেকে মাদক ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। সরেজমিনে গিয়ে কিছুক্ষণ অবস্থান করে দেখা গেছে কেউ সেবনের উদ্দেশ্যে আবার কেউ বিক্রির উদ্দেশ্যে মাদক ক্রয় করছে। এ যেন মাদক ক্রয় বিক্রয়ের এক একটি নিরাপদ স্পট। কিভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে চলছে মাদক বিক্রি সে প্রশ্ন এখন রহস্যে ঘেরা।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় অবাধে ইয়াবা, গাঁজা ও বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য বিক্রি হলেও কার্যকরভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। ফলে একদিকে যেমন ধ্বংস হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম, অন্যদিকে বাড়ছে চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন এভাবেই এসকল স্হানে প্রকাশ্যেই চলছে মাদক বিক্রি ও সেবন। অনেক সময় ছোট ছোট কিশোরদেরও মাদক বহন ও সরবরাহের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে অল্প বয়সেই অনেক তরুণ অপরাধজগতে জড়িয়ে পড়ছে।

এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, মাদকের বিস্তারের কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক পরিবারে অশান্তি বাড়ছে, পড়াশোনা ছেড়ে বিপথে যাচ্ছে যুবকরা। রাত হলেই এলাকায় সৃষ্টি হয় আতঙ্কের পরিবেশ। মাদকাসক্তদের উৎপাত, ঝগড়া-বিবাদ ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। যারা প্রতিবাদ করে, তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শুধু খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেফতার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। মাদকের পেছনে থাকা মূল হোতা ও সিন্ডিকেটকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে না পারলে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে কিশোর ও তরুণদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ফেনীর সহকারী পরিচালক আবদুল হামিদ বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান, মামলা ও গ্রেফতার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মাদক নির্মূলে আমরা সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। কোনো মাদক কারবারিকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি আরও জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন। পরিবার ও সামাজিক সচেতনতা ছাড়া মাদকের ভয়াবহতা থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, লালপুল বস্তি ও রেইলগেইট এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি স্থায়ী নজরদারির ব্যবস্থা করা হোক। অন্যথায় ভবিষ্যতে এ সমস্যা আরও ভয়াবহ সামাজিক সংকটে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

 

Link copied!