কুমিল্লা মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের মানরা গ্রামে এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীর পাঠানো রেমিট্যান্স, এনজিও ঋণের নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো তাদের কোনো সন্ধান পায়নি।
অভিযোগকারী আবুল বাশার জানান, তার ছেলে মাহবুব রহমান প্রায় আড়াই বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। গত (৭ মে) সকালে তার পুত্রবধূ ফারজানা আক্তার (২২) তাদের ৫ বছরের একমাত্র কন্যা মায়মুনা আক্তার মারিয়াকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ। বাড়ি তল্লাশি করে দেখা যায় আলমারিতে রাখা মাহবুবের সদ্য পাঠানো ৫০ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে তোলা একটি স্থানীয় এনজিও থেকে ঋণ পরিশোধের জন্য তোলা ৫ লাখ টাকা প্রায় আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার সবই উধাও।
আবুল বাশারের ভাষ্যমতে, প্রায় ৬ বছর আগে পারিবারিকভাবে দুর্গাপুর গ্রামের ওমর ফারুকের মেয়ে ফারজানার সঙ্গে মাহবুবের বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথম দুই বছর মাহবুব দেশে ছিলেন, পরে জীবিকার তাগিদে সৌদি যান।
স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে একই দুর্গাপুর গ্রামের বেলাল মিয়ার ছেলে সাফিনের সঙ্গে ফারজানার পরিচয় ও পরে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, গত কয়েক মাস ধরেই দুজনকে একসঙ্গে দেখা যেত।
ঘটনার দিন রাতেই আবুল বাশার মনোহরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি তিনটি বিষয় উল্লেখ করেছেন স্ত্রী ও নাবালিকা কন্যাকে উদ্ধার প্রেমিক সাফিনকে গ্রেপ্তার নগদ টাকা ও স্বর্ণ উদ্ধার করে ন্যায়বিচার তিনি বলেন, আমার ছেলে বিদেশে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে টাকা পাঠায়। সেই টাকা নিয়ে বউ বাচ্চাসহ চলে যাবে, এটা আমরা কল্পনাও করিনি।
মনোহরগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা নেওয়া হয়েছে। ফারজানা ও সাফিনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের কল ডিটেইলস এবং লোকেশন ট্র্যাকিং চলছে। তবে দুটি নম্বরই ঘটনার পর থেকে বন্ধ থাকায় শনাক্তে সময় লাগছে।
পুলিশ আরও জানায়, যেহেতু সঙ্গে ৫ বছরের শিশু আছে, তাই বিষয়টি শুধু প্রতারণা বা চুরি নয়, শিশু আইনের আওতায়ও দেখা হচ্ছে।
মানরা ও দুর্গাপুর গ্রামে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মনোহরগঞ্জ প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এমন ঘটনা পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অনেক প্রবাসী পরিবার এখন তাদের পাঠানো টাকা সরাসরি স্ত্রীর হাতে না দিয়ে বাবা-মায়ের একাউন্টে রাখার কথা ভাবছেন।
স্থানীয় মেম্বার বলেন, এনজিও থেকে ৫ লাখ টাকা তোলা মানে পুরো পরিবার ঋণের জালে। এখন টাকাও নেই, বউ-বাচ্চাও নেই।
বর্তমান অবস্থা ৭ মে পালানোর পর আজ ১২ মে পর্যন্ত ফারজানা, সাফিন বা শিশু মারিয়ার কোনো হদিস মেলেনি। পুলিশ বলছে, তারা কুমিল্লার বাইরে চলে গিয়ে থাকতে পারে, তাই জেলা পুলিশের সাইবার ইউনিটকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :