বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের কাইচতলী এলাকায় অবৈধ পাহাড় কেটে মাটি ও বালু ব্যবসাকে ঘিরে প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতির অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিন অনুসন্ধান, স্থানীয় বাসিন্দাদের সাক্ষাৎকার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কাইচতলীর ‘আতুরের ডিপু’ এলাকায় শাহ আলমের বাড়ির পাশের একটি পাহাড় থেকে নিয়মিত মাটি কাটা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানায়, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের দখলীয় ওই পাহাড় থেকে দিনের বেলায় শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটা হয় এবং সন্ধ্যার পর ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।
গত ১৪ মে বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে তিনজন শ্রমিককে পাহাড় কেটে মাটি ভাঙার কাজ করতে দেখা যায়। তাঁদের প্রত্যেকেই জানান, দৈনিক ৪০০ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন। প্রথমে কাজের মালিকানা সম্পর্কে কিছু বলতে না চাইলেও পরে এক শ্রমিক মোহাম্মদ নুরু জানান, স্থানীয় কয়েকজনের নির্দেশনায় তারা কাজ করছেন।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, স্থানীয় যুবদলের কয়েকজন নেতার নাম তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মোঃ শাহাবুদ্দিন, মোঃ ইলিয়াছ ও মোঃ মিজান। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই তিনজনসহ আরও কয়েকজন মিলে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন।
পাহাড়সংলগ্ন বাড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ তৌয়ব টিপু বলেন, “আমার বাবা পাহাড়ের জায়গাটি জাহাঙ্গীরের কাছে বিক্রি করেছিলেন। পরে তিনি এই পাহাড়ের মাটি তার ছেলে সহ স্থানীয় কয়েকজনের কাছে দিয়ে দেন। তারা দিনে শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটে, আর রাতে তা বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়।”
আরেক বাসিন্দা মনছুর আলমের ভাষ্য, “জাহাঙ্গীরের ছেলে মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, ইলিয়াছ ও শাহাবুদ্দিনসহ কয়েকজন এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাহাড় থেকে কাটা মাটি বিভিন্ন উন্নয়নকাজে ব্যবহারের জন্য ঠিকাদারদের কাছে প্রতি ডাম্পার প্রায় ৯৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়। তবে আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দ্বন্দ্বও তৈরি হয়েছে। এতে করে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ঘটনাও ঘটছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মোঃ শাহাবুদ্দিন, মোঃ মিজান ও মোঃ ইলিয়াছের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা সাড়া দেননি। বরং প্রতিবেদককে ফাঁসিয়ে দিবেন বলে সরাসরি হুমকিদেন তারা।
এ বিষয়ে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিমের সঙ্গে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এ বান্দরবান সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু সালেহ মো. আরমান ভূঁইয়া বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বা তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আপনার মতামত লিখুন :