পিপিআর-২০২৫ ইজিপি’র এসএলটি পদ্ধতিতে কোটি কোটি টাকা রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬, ০২:৫২ পিএম

কামাল পারভেজ: সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় নতুন পিপিআর-২০২৫ অনুযায়ী ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ইজিপি) ব্যবস্থায় চালু হওয়া এসএলটি (Single Lot Tender) সিস্টেম নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, এই পদ্ধতির কারণে সরকারের কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পূর্ববর্তী ব্যবস্থায় সরকারি টেন্ডারগুলো সর্বনিম্ন দরদাতা (Lowest Tenderer-L1) পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হতো। এতে প্রতিযোগিতামূলক দর নিশ্চিত হওয়ায় সরকার কম খরচে পণ্য ও সেবা সংগ্রহ করতে পারত। কিন্তু নতুন এসএলটি পদ্ধতিতে একক লটে দরপত্র মূল্যায়নের ফলে অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত প্রতিযোগিতা কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঐদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ে, সড়ক জনপথ, গণপূর্ত, বন্দর, সিটি করপোরেশন, এলজিআরডি, রাজউক, সিডিএ, শিক্ষা প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য প্রকৌশলী, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ওয়াসা, কর্ণফুলী গ্যাস, তিতাস গ্যাস, বিদ্যুৎ বিভাগ সহ প্রায় ১৫ টি সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যা নতুন নিয়মে ইজিপি সিস্টেমে টেন্ডার পরিচালিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বড় লোকসান খাত হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়ে, যা কাঁচামাল (যন্ত্রপাতি) আমদানির নামে বছরে ৪-৫ শত কোটি টাকা, অন্যান্য মেরামতের নামে আরও ২-৩ শত কোটি টাকা অতিরিক্ত গচ্চা দিতে হচ্ছে সরকারের, ফলে লাভবান হচ্ছে ঠিকাদার ও রেল কর্মকর্তা কর্মচারী সিন্ডিকেট। এরপর রয়েছে এলজিআরডি ৫-৬ শত, গণপূর্ত ৪-৬, সড়ক জনপথ ৫-৬, সিডিএ ৩-৪, রাজউক ৪-৫, বন্দর ৪-৬, প্রতিটি সিটি করপোরেশন ৪৫০-৫৫০,পানি উন্নয়ন বোর্ড ৪৫০-৫৭৫, ওয়াসা ৫-৬, অন্যান্য ৫৫০-৬৭৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি গুনতে হচ্ছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের এল-ওয়ান (L1) ভিত্তিক পদ্ধতিতে যোগ্য সর্বনিম্ন দরদাতা কাজ পাওয়ার সুযোগ থাকায় দর কমানোর প্রবণতা ছিল। ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থ সাশ্রয় হতো। অন্যদিকে এসএলটি ব্যবস্থায় বড় পরিসরের একক দরপত্রে অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে পড়ায় দর বেশি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ক্রয় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নতুন এই ব্যবস্থায় অনেক ছোট ও মাঝারি ঠিকাদার অংশ নিতে পারছেন না। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যাচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে দর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সরকারি ব্যয়ে।

এ বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের প্রতি সংশ্লিষ্টদের দাবি, পিপিআর-২০২৫ এর আওতায় ইজিপি’র এসএলটি পদ্ধতি পুনর্মূল্যায়ন করে আগের সর্বনিম্ন দরদাতা ভিত্তিক প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা পুনর্বহাল অথবা প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা জরুরি। অন্যথায় রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।

Link copied!