ব্রাহ্মণপাড়ায় মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধে গ্রামবাসীর সমাবেশ

মোঃ রেজাউল হক শাকিল , ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম

​ব্রাহ্মণপাড়ায় সদর ইউনিয়নে মহালক্ষীপাড়া গ্রামে মাদক, চুরি ও ইভটিজিংয়ের মতো সামাজিক অপরাধ নির্মূলে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ‘অপরাধকে প্রতিরোধ করি, শান্তির সমাজ গড়ি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে একতাবদ্ধ হয়েছেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের মানুষ।

​আজ শনিবার (১৬ মে) বিকালে মহালক্ষীপাড়া শরিফ মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং তরুণ প্রজন্মকে অবক্ষয় থেকে বাঁচাতে গ্রামবাসীর এই স্বতঃস্ফূর্ত সমাবেশ নজর কেড়েছে স্থানীয়দের।

​সমাবেশে বক্তারা মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেন। তাঁরা সাফ জানিয়ে দেন, এলাকায় কোনো ধরনের মাদক কেনাবেচা বা সেবন চলতে দেওয়া হবে না। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়া চুরি ও ছিনতাই রোধে পাড়া-মহল্লায় নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন গ্রামবাসী।

​ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহিরুল হক ঠিকাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মহসিন কবির সরকার।

​সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন: ​সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সরকার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যক্ষ রেজাউল করিম,​বিশিষ্ট সমাজসেবক শাহজাহান সরকার,থানার সদর ইউনিয়নে বিট পুলিশ এস আই আল আমীন, ও বিল্লাল হোসেন মাস্টার, ​অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও আক্তার হোসেন, ​এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডা. সোহেল রানা, হাসান ভূইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী নুরুল ইসলাম সুবেদার, হাজী আবু তাহের, ফরিদ আহমেদ, হারুন মিয়া সর্দার ও আবদুল মতিন সর্দার। যুবদল নেতা শাহজালালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্থানীয় যুবসমাজসহ ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

​উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়ে প্রধান অতিথি মহসিন কবির সরকার বলেন, "এলাকায় মাদক ও ইভটিজিং আমাদের বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। গ্রামবাসীর এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং একতা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।"

​সমাবেশ শেষে উপস্থিত জনতা নিজ নিজ এলাকাকে অপরাধমুক্ত রাখার শপথ গ্রহণ করেন। স্থানীয়রা মনে করছেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সামাজিক এই ঐক্য অন্যান্য এলাকার জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

 

 

Link copied!