কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বেদখলে থাকা প্রায় দুই একর জমি ও বসতবাড়ি আদালতের নির্দেশে উদ্ধার করা হয়েছে। আজ (১৪ মে) বৃহস্পতিবার দিনভর উপজেলার শশীদল ইউনিয়নে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ও লাল নিশানা টাঙিয়ে প্রকৃত মালিকদের দখল বুঝিয়ে দেয় আদালত নিযুক্ত প্রতিনিধিদল। এ সময় উচ্ছেদ অভিযান দেখতে স্থানীয়দের ভিড় জমে এবং আনন্দ উৎসবে বিরিয়ানিও বিতরণ করা হয়।
আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া এলাকার মোকলেছুর রহমান ও খোরশেদ আলমের সঙ্গে স্থানীয় আবুল হাসেম ও আবদুর রাজ্জাক গংদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। শশীদল মৌজার ২২ শতক বসতভিটা ও ১ একর ৯০ শতক কৃষিজমি নিয়ে চলা এই বিরোধ মীমাংসায় একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
শেষমেশ ২০১২ সালে ভুক্তভোগীরা কুমিল্লা সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা করেন। আদালত মামলার রায়ে মোকলেছুর ও খোরশেদ আলমকে জমির মালিক হিসেবে ঘোষণা করেন। বিবাদী পক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত ওই জমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে মালিককে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই দখল প্রক্রিয়া। আদালত নিযুক্ত প্রতিনিধিরা পরিমাপ শেষে জমির চারপাশে লাল নিশানা পুঁতে দেন। আদালতের এই কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ও আনন্দ প্রকাশ করে মালিক পক্ষ, বসতবাড়ি শশীদল মৌজার সাবেক সিএস ৩৯৪ ও ৩৯৫ দাগের ২২ শতাংশ, কৃষিজমি ৪৮ দাগের ১ একর ৯০ শতাংশ।
জমি বুঝে পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত হয়ে খোরশেদ আলম বলেন, "দীর্ঘ ১৫ বছর আমরা আমাদের পৈতৃক জমি থেকে বঞ্চিত ছিলাম। আইনি লড়াই যে ফল দেয়, আজ তা প্রমাণ হলো। আদালতের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা বহুগুণ বেড়ে গেছে।"
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি), তারেক রহমান, কুমিল্লা জেলা জজ আদালতের নাজির মুমিনুল ইসলাম,, সিভিল কোর্ট কমিশনার। আল আমীন এবং জেলা ও থানা পুলিশ একটি বিশাল দল।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক রহমান জানান, আদালতের সুনির্দিষ্ট রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও আদালতের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই এই উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
আপনার মতামত লিখুন :