চট্টগ্রাম অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ও নৃতাত্ত্বিক পণ্যের উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং বাজার সম্প্রসারণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের উন্নয়নে কাজ করা সরকারি প্রতিষ্ঠান এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় ঐতিহ্যভিত্তিক পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি, ডিজাইন উদ্ভাবন, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
মঙ্গলবার (১৩ মে) বেলা ১১টায় নগরীর চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউটের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক মোঃ আব্দুস সালাম সরদার। উপস্থিত ছিলেন সহকারী মহাব্যবস্থাপক রাহুল বড়ুয়া এবং রিসোর্স পার্সন শাওন আকন্দসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সভায় বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বাঁশ, বেত, মাটির তৈরি সামগ্রী, কাঠশিল্প, লোকজ অলংকার, হস্তশিল্প ও বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পণ্যের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক ডিজাইন, মানসম্মত প্যাকেজিং, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং আন্তর্জাতিক বাজার উপযোগী ব্র্যান্ডিংয়ের অভাবে এসব পণ্য কাঙ্ক্ষিত বাজার সম্প্রসারণে পিছিয়ে রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় ঐতিহ্যবাহী পণ্যের উন্নয়নে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার, অনলাইন বিপণন কৌশল, পণ্যের জিআই (Geographical Indication) সম্ভাবনা যাচাই, ডিজাইন রিসার্চ এবং উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি তরুণ ডিজাইনারদের জন্য বিশেষ দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, ডিজাইন ল্যাব স্থাপন এবং স্থানীয় সংস্কৃতিনির্ভর সৃজনশীল শিল্প বিকাশে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা আরও বলেন, স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বাণিজ্যিক সম্ভাবনায় রূপান্তর করতে হলে কারিগর, উদ্যোক্তা, ডিজাইনার ও বিপণন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহজ অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং বাজার সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পণ্য দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
সভায় চারুকলা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ডিজাইনার, উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। তারা নিজ নিজ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ঐতিহ্যবাহী পণ্যের টেকসই উন্নয়ন, কারিগরদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং নতুন প্রজন্মকে এ খাতে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ও নৃতাত্ত্বিক বৈচিত্র্যকে ভিত্তি করে সৃজনশীল শিল্প খাতকে আরও গতিশীল করতে ধারাবাহিক কর্মশালা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।
আপনার মতামত লিখুন :