সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদচর্চার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলা সোহরাওয়ার্দী কলেজ সাংবাদিক সমিতি (সোকসাস) স্পর্শ করল গৌরবময় পথচলার নতুন এক মাইলফলক।
বুধবার (১৩ মে) সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে ৫ম বর্ষে পদার্পণ করেছে। সকালে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাংবাদিক সমিতির নিজস্ব কার্যালয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা, কেক কাটা ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায়, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ফরিদা ইয়াসমিন, অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন, সমিতির সভাপতি আমিরুল ইসলাম, সহসভাপতি লিখন হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবিদ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রহিমা বেগম স্মৃতি, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদুল ইসলাম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আজিম, প্রচার সম্পাদক ফাহেদ জামান, অর্থ সম্পাদক মোঃ পলাশ মিয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য আল আমিন মোহ, সহকারী ও সহযোগী সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্ববৃন্দরা।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায় বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। এটি সমাজের আয়না হিসেবে কাজ করে। একজন শিক্ষার্থী যখন সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তার মধ্যে দায়িত্ববোধ, নেতৃত্ব ও সত্য বলার সাহস তৈরি হয়। সোহরাওয়ার্দী কলেজ সাংবাদিক সমিতি গত চার বছরে যেভাবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য হলো প্রকৃত অপরাধীকে খুঁজে বের করা, কাউকে অযথা হয়রানি করা নয়। আমরা যেন কখনো ভুল, অসত্য ও হলুদ সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত না করি। আমি আশা করি, আজকের এই শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে দেশের বড় বড় গণমাধ্যমে কাজ করে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তুলে ধরবে। মানবিকতা, সততা ও দায়িত্ববোধ নিয়েই এগিয়ে যাবে আমাদের আগামী দিনের সাংবাদিকরা। ছোট ছোট পদক্ষেপে এগিয়ে চলা এই সংগঠন একদিন বড় সাফল্যের জায়গায় পৌঁছাবে,এই বিশ্বাস রাখি।
কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, একটি কলেজের সাংবাদিক সংগঠন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশের অন্যতম বড় প্ল্যাটফর্ম। সোহরাওয়ার্দী কলেজ সাংবাদিক সমিতি শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতেও কাজ করছে। ৫ম বর্ষে পদার্পণ সংগঠনটির জন্য একটি গর্বের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, এটি সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের কাজ করে থাকে। তোমারা দেশের প্রতি দায়িত্ব থেকে সাংবাদিকতায় আসবে। যে কোনো সংগঠনের সফলতার পেছনে থাকে ঐক্য, নিষ্ঠা ও পরিশ্রম। আমি আশা করি, সংগঠনটির সদস্যরা ভবিষ্যতেও পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতার জায়গা থেকে কাজ করবে এবং কলেজের সুনাম আরও বৃদ্ধি করবে।
সংগঠনের সভাপতি আমিরুল ইসলাম বলেন, আজকের এই দিনটি আমাদের জন্য শুধু আনন্দের নয়, আবেগেরও। এই সংগঠনের প্রতিটি অর্জনের পেছনে রয়েছে অসংখ্য মানুষের শ্রম, ভালোবাসা ও আত্মত্যাগ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যারা পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতা সমাজের দর্পণ, আর সোকসাস সবসময় শিক্ষার্থীদের সমস্যা তুলে ধরে ক্যাম্পাসের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি সাংবাদিকতায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, নৈতিকতা ও নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ঐক্য, সততা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে সোকসাস ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে, এটাই আমাদের বিশ্বাস।
সহ-সভাপতি লিখন হোসেন বলেন, ৫ম বর্ষে পদার্পণ আমাদের জন্য এক নতুন অনুপ্রেরণা। আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের সমস্যা, সম্ভাবনা ও সাফল্যের গল্পগুলো সামনে আনার চেষ্টা করেছি এবং ভবিষ্যতেও করবো।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। তাই সাংবাদিকদের আরও বেশি সচেতন, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে। আমরা চাই, আমাদের সংগঠনের সদস্যরা আগামী দিনে দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করুক। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের দক্ষ ও দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাবো।
উল্লেখ্য, আলোচনা শেষে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। পরে স্মৃতিচারণ, ফটোসেশন ও আনন্দঘন মুহূর্তের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আয়োজন।
আপনার মতামত লিখুন :