নীলফামারীর জলঢাকায় কুখ্যাত মোটরসাইকেল চোর চক্রের গডফাদার শাহিন মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৩২টি চোরাই সন্দেহ ভাজন মোটরসাইকেল জব্দ করেছে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় গ্যারেজ মালিকসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার (১৭ মে) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলমের নেতৃত্বে উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের টেংগোনমারী বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মেসার্স আসিফ ট্রেডার্স নামের একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজের তিনটি পৃথক গোপন গোডাউন থেকে এসব মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জলঢাকা উপজেলাজুড়ে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। পৌর শহরের থানা মোড়, জিরো পয়েন্ট, বাসস্ট্যান্ড, তেলপাম্প, কদমতলি, ডালিয়া রোড, ট্রাফিক মোড় ও ডোমার-ডিমলা সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে প্রায়ই মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটছিল। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও এসব চুরির ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের দিঘলটারী গ্রামের মমিনুর রহমানের ছেলে এবং মোটরসাইকেল চোর চক্রের মূলহোতা হিসেবে পরিচিত শাহিন মিয়া (৩০) কে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ। পরে পূর্বের মোট ১১ টি মামলার মধ্যে তিনটি মামলায় তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। আদালত শাহিনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে জিজ্ঞাসা বাদের প্রথম দিনেই সে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয়। শাহিনের দেওয়া তথ্য ও সনাক্ত মতে রবিবার বিকেলে টেংগোনমারী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে আব্বাস আলীর এম এস আসিফ ট্রেডার্স মোটরসাইকেল গ্যারেজ ও পেছনের গোপন গোডাউন থেকে ৩২টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অধিকাংশ মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন গ্যারেজ মালিক মেকার আব্বাস আলী।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্বাস আলী পুলিশকে জানান, শাহিন ও ফরিদুলসহ বিভিন্ন চোরের কাছ থেকে তিনি মোটরসাইকেল গুলো ক্রয় করেছেন। এছাড়াও তিনি পুরাতন মোটরসাইকেল কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করেন। গ্যারেজ থেকে উদ্ধার হওয়া মালিকানা সংক্রান্ত কিছু কাগজপত্র বর্তমানে যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।
এ বিষয়ে জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম দৈনিক প্রতিদিনের কাগজকে বলেন, জলঢাকায় মোটরসাইকেল চুরি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, পুলিশ সেটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। কুখ্যাত চোর শাহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৩২টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিকদের শনাক্তে কাজ চলছে। যাদের মোটরসাইকেল হারিয়েছে তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে থানায় যোগাযোগ করলে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের কাছে মোটরসাইকেল হস্তান্তর করা হবে। শাহিনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে আমরা ধারণা করছি, দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোরচক্র এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। জলঢাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান চলমান থাকবে। এ ঘটনার পর পুরো উপজেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :