বিশ্বনাথে কমিউনিটি ক্লিনিকে ডাক্তার শূন্য : সেবা বঞ্চিত এলাকাবাসী

রাজা মিয়া , বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭ মে, ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম

গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হলো কমিউনিটি ক্লিনিক। প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিক সাধারণত ৬ হাজার মানুষের জন্য একটি নির্দিষ্ট এলাকায় স্থাপন করা হয়েছ। যেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রদান করার কথা। কিন্তু অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনায় ক্লিনিক এলাকার মানুষ সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন। দিনের পর দিন সেবা না পেয়ে ক্ষুব্ধ রোগীরা। ক্লিনিকে এলে পাওয়া যায় না ডাক্তার, পাওয়া যায় না ওষুধ। এমন চিত্র বিশ্বনাথ উপজেলার একাধিক কমিউনিটি ক্লিনিকের।

সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে কমিউনিটি হেলথ্ কেয়ার প্রভাইডার (CHCP), স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তারা দিনের পর দিন অনুপস্থিত থেকেও ভোগ করছেন সরকারি বেতন ভাতা। ওষুধ পত্র ও ডাক্তার না পাওয়ায় খালি হাতে ফিরছেন রোগীরা। একাধিক রোগীর মুখে ক্ষোভ ও হতাশার এমন অভিযোগ দিব্যি অস্বীকার করেন ক্লিনিক কর্মকর্তারা।

শনিবার (১৬ মে) বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নের কুমারগাঁও (ভোলাগঞ্জ) কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায় ডাক্তার শুন্য ক্লিনিক। নেই কোনো স্বাস্থ্য সহকারীও। দরজা বন্ধ রয়েছে। একাধিক রোগী ডাক্তার না পাওয়ার অভিযোগ করেন।

এসময় স্থানীয় সেবা প্রার্থী, ষাটোর্ধ এতিম উল্লাহ বলেন, আমি তিনদিন ধরে ওষুধের জন্য আসছি কিন্তু প্রতিদিনই ক্লিনিকের দরজা বন্ধ পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছি। স্বাভাবিক জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা পঞ্চাশোর্ধ দিলারা বেগম জানান, ভাগ্য ভালো হলে ডাক্তার মেলে, না হলে মেলে না। ডাক্তারের মনমত যখন খুশি তখন আসেন। আসলেও ঘন্টাখানেক পর চলে যান। এছাড়া চাহিদামত ওষুধ না পাওয়ার কথা জানান আকলিমা বেগম নামের আরেক রোগী। 

কমিউনিটি ক্লিনিকে বিনামূল্যে সাধারণ জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া এবং প্রাথমিক কাটা-ছেঁড়ার জন্য বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান, মা ও শিশু স্বাস্থ্যে গর্ভবতী মায়েদের প্রসবপূর্ব (ANC) ও প্রসবোত্তর (PNC) সেবা এবং নিরাপদ প্রসবের পরামর্শ ও ব্যবস্থা, পরিবার পরিকল্পনার জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণের নানা উপায় ও পরামর্শ প্রদান, টিকা কার্যক্রমে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা, স্বাস্থ্য সচেতনতায় পুষ্টি, সুস্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন বিষয়ে স্থানীয়দের সেবা প্রদান করার কথা থাকলেও কী কারণে জনগণ উপকার পাচ্ছে না সেই উত্তর নেই সেবা দাতাদের কাছে।

ক্লিনিকে নিয়মিত না আসা, যখন খুশি তখন আসা, রোগীরা সেবা না পাওয়ার বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে (একাধারে তিনদিন ক্লিনিকে তাকে না পেয়ে)  কমিউনিটি হেলথ্ কেয়ার প্রোভাইডর (CHCP)রুমান বেগম অভিযোগগুলো সরাসরি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি প্রতিদিন ক্লিনিকে সেবা দিচ্ছি। শারিরীকভাবে অসুস্থ থাকায় সময়মত উপস্থিত হতে পারি না। স্বাস্থ্য সহকারীরা তো আছে। আমি ছুটি নেব।

সেবার মান ও কমিউনিটি হেলথ্ কেয়ার প্রোভাইডার অনুপস্থিত থাকার ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আনিসুল হোসেনের সাথে কথা বলতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তাকেও পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে কথা বলতে চাইলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

 

Link copied!