প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির লীলাভূমি বান্দরবান। তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক কঠিন বাস্তবতা—দুর্গমতা, সীমিত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নানা প্রতিকূলতা। এমন পরিবেশে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সংগ্রহ করা নিঃসন্দেহে এক বড় চ্যালেঞ্জ। আর এই চ্যালেঞ্জকে জয় করে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সাহস, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সাংবাদিকতা করে যাচ্ছেন সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ আবদুর রহিম।
দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক দৈনিক জনকণ্ঠ-এর নিজস্ব সংবাদদাতা এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই অভিজ্ঞ সাংবাদিক আজ কেবল একজন সংবাদকর্মী নন; তিনি পার্বত্য জনপদের এক নির্ভরযোগ্য কণ্ঠস্বর।
ভাষাগত দক্ষতা ও মানুষের প্রতি আন্তরিকতা
মোহাম্মদ আবদুর রহিমের সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর ভাষাগত দক্ষতা ও মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক। পার্বত্য অঞ্চলের ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে অন্তত ৭টি ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে পারেন তিনি। ফলে পাহাড়ের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সহজেই মিশে যেতে পারেন।
দোভাষীর প্রয়োজন ছাড়াই সরাসরি মানুষের মুখ থেকে বাস্তবতা শোনার এই সক্ষমতা তাঁর সংবাদকে করে তোলে আরও নির্ভুল, জীবন্ত ও বিশ্বাসযোগ্য।
অবহেলিত পাহাড়ের বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরা
তিনি শুধু সংবাদ পাঠান না, তিনি তুলে ধরেন পাহাড়ের মানুষের জীবনের গভীর গল্প। তাঁর লেখায় উঠে আসে বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢল, ভূমিধস, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং দুর্ভোগের নির্মম চিত্র।
যখন ভারী বর্ষণে বান্দরবানের সঙ্গে দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তখন মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থেকে সঠিক তথ্য তুলে ধরেন তিনিই।
একই সঙ্গে তিনি পার্বত্য অঞ্চলের লোকসংস্কৃতি, পর্যটনের সম্ভাবনা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সংকট এবং খাদ্য নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রতিবেদন নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় বলিষ্ঠ নেতৃত্ব
পাহাড়ের সাংবাদিকতার পাশাপাশি সারাদেশের মফস্বল সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক হিসেবে তিনি তৃণমূল সাংবাদিকদের সংগঠিত করা, তাদের সমস্যা সমাধান এবং পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
পার্বত্য সাংবাদিকতার বিশেষ চ্যালেঞ্জ
পার্বত্য চট্টগ্রামে সাংবাদিকতা করা সমতলের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। এখানে কাজ করতে হলে শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, প্রয়োজন স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভাষাগত দক্ষতা এবং বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলা।
একই সঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক ও সংবেদনশীল ইস্যুতে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মোহাম্মদ আবদুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে এই কঠিন ভারসাম্য বজায় রেখে নিরপেক্ষ ও সাহসী সাংবাদিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন।
নতুন প্রজন্মের জন্য প্রেরণা
যখনই জাতীয় গণমাধ্যমের দৃষ্টি বান্দরবানের দিকে যায়, তখন তথ্যের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে উঠে আসে তাঁর নাম।
নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের কাছে তিনি একজন মেন্টর। প্রতিকূল পরিবেশে কীভাবে টিকে থাকতে হয়, কীভাবে নৈতিকতা বজায় রেখে সত্য তুলে ধরতে হয়—তার বাস্তব উদাহরণ তিনি নিজেই।
এক আলোকিত যাত্রার গল্প
পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন, শান্তি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয় সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মোহাম্মদ আবদুর রহিম সেই দায়িত্বকে ধারণ করে পাহাড় ও সমতলের মধ্যে তথ্যের এক দৃঢ় সেতুবন্ধন তৈরি করেছেন।
তিনি কেবল একজন সাংবাদিক নন—তিনি এক নির্ভীক কণ্ঠ, এক আস্থার নাম, এবং পার্বত্য জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের নির্ভরতার প্রতীক।
আপনার মতামত লিখুন :