ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ট্রাকচালকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে মাগুরা জেলা পুলিশ। মাগুরা শালিখা উপজেলার ব্যবসায়ীর ১৯ লাখ টাকা মূল্যের ৬০ ব্যারেল ভোজ্যতেল ভর্তি ট্রাক ছিনতাই ও চালক হত্যার ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ টাকা মূল্যের ভোজ্যতেল ও নগদ অর্থ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মার্চ মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া বাজারের “মেসার্স মহামায়া ট্রেডার্স”-এর মালিক গোপাল সাহা ঢাকার মৌলভীবাজার এলাকার “এ এফ ট্রেডার্স” থেকে ৬০ ব্যারেল ভোজ্যতেলের অর্ডার দেন। পরে ১৮ মে রাতে যশোরের কোতয়ালী থানার রাজারহাট এলাকার বাসিন্দা ট্রাকচালক আব্দুর রহমান (৫৮) নারায়ণগঞ্জ থেকে তেল ভর্তি ট্রাক নিয়ে মাগুরার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
তবে নির্ধারিত গন্তব্যে না পৌঁছালে ব্যবসায়ী গোপাল সাহা চালকের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে গত ২০ মে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা বাজার-গাজীর বাজার সড়কের খেদপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক থেকে দুর্গন্ধ বের হতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকের ভেতর থেকে চালক আব্দুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়।
পরবর্তীতে গত ২৩ মে ব্যবসায়ী গোপাল সাহা মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বিষয়টি অবহিত করলে পুলিশ সুপার সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে মাগুরা জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে। এরপর ২৪ মে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও মাগুরা সদর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত আজাদ হোসেন হিটলার (২৭) নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ড ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত অন্যদের নাম প্রকাশ করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিকাশ সাহা (৩০), আব্দুল কুদ্দুস (৫০) ও হারুন অর রশীদ (৪৮) কে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের দেখানো মতে বিভিন্ন স্থান থেকে ৪৫ দশমিক ৫ ব্যারেল ভোজ্যতেল, ৭টি খালি ব্যারেল এবং নগদ ৩ লাখ ৭ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত তেলের বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
পুলিশের দাবি, এটি একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের কাজ। ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :