রাসেদুল ইসলাম, লোহাগড়া : তীব্র গরমে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় বেড়েছে কাঁচা তালের শাঁসের চাহিদা। গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন হাট-বাজার, অলিগলি ও সড়কের মোড়ে মোড়ে এখন দেখা মিলছে তালের শাঁস বিক্রেতাদের।
গরম থেকে স্বস্তি পেতে এবং পুষ্টিগুণের কারণে অনেকেই আগ্রহ নিয়ে কিনছেন এই মৌসুমি ফলের শাঁস। মঙ্গলবার (২ জুন) উপজেলা ও পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিক্রেতারা ধারালো দা দিয়ে কাঁচা তাল কেটে ভেতরের স্বচ্ছ ও নরম শাঁস বের করে বিক্রি করছেন। বিশেষ করে লোহাগড়া বাজার, লক্ষ্মীপাশা চৌরাস্তা, পৌর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক এবং সওদাগরপাড়া মোড়ে তালের শাঁস বিক্রির ধুম পড়েছে।
তালের শাঁস কিনতে আসা স্কুলশিক্ষার্থী জুবায়ের রহমান বলেন, “গরমের দিনে তালের শাঁস খেতে খুব ভালো লাগে। তাল কাঁচা অবস্থায় পানি-তাল হিসেবে বিক্রি হয় এবং এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখে।”
সওদাগরপাড়া মোড়ের তালের শাঁস বিক্রেতা সবুজ শেখ জানান, প্রতিটি তালের মধ্যে সাধারণত তিন থেকে চারটি শাঁস থাকে। তালের আকার ও মানভেদে প্রতিটি তাল ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করা হয়। তিনি বলেন, “পাইকারি বাজার থেকে প্রতি তাল ২ থেকে ৪ টাকায় কিনতে হয়। এরপর গাছ থেকে তাল সংগ্রহ, পরিবহন ও বাজারে এনে বিক্রি করতে বেশ পরিশ্রম করতে হয়। তবে গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তালের শাঁসের বিক্রিও বেড়ে যায়। প্রতি বছর এই মৌসুমে তালের শাঁস বিক্রি করে ভালো আয় হয়।”
লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল হাসনাত বলেন, “তালের শাঁস শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি গরমের দিনে পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। তালের শাঁসে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এছাড়া এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কচি তালের শাঁস রক্তশূন্যতা দূর করতে সহায়ক এবং চোখের দৃষ্টিশক্তি ও রুচি বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে।”
গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোহাগড়ার বাজারগুলোতে তালের শাঁসের বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর ও প্রাকৃতিক এই খাদ্যটি গ্রীষ্মকালে মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :