কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে এক কিশোর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবকসহ তার মা ও বোনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়ন-এর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লরাবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত হামিদ (১৭) ওই এলাকার আবুল কালামের ছেলে। অভিযুক্ত শামিম (১৮) একই এলাকার মোহাম্মদ সিদ্দিকের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামিদ ও শামিম ছিলেন প্রতিবেশী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু। হামিদ পেশায় মোবাইল মেকানিক এবং শামিম টমটমচালক। কিছুদিন আগে শামিম হামিদের কাছে একটি মোবাইল ফোন মেরামত করান। তবে নির্ধারিত টাকা পরিশোধ না করে তিনি সময়ক্ষেপণ করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানান, ঘটনার দিন সকালে শামিমের সঙ্গে দেখা হলে হামিদ পাওনা টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে শামিমের মা ও বোনও সেখানে এসে হামিদকে টানা-হেঁচড়া করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে শামিম হঠাৎ একটি ছুরি দিয়ে হামিদের পেটের পাশে আঘাত করে পালিয়ে যান।
হামিদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে শামিমকে আটক করেন এবং তার মা ও বোনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
চেয়ারম্যান আরও জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় হামিদকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে ঈদগাঁও থানা-র অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার-এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত, তার মা ও বোনকে আটক করে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, তুচ্ছ একটি আর্থিক বিরোধের জেরে এলাকায় এ ধরনের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আগে ঘটেনি। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে।
আপনার মতামত লিখুন :