ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা বাজার এলাকায় ধসে পড়া বেইলি ব্রিজ পরিদর্শন করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। সোমবার সকালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজের অবস্থা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগের খোঁজখবর নেন।
গতকাল ভোররাতে বালুবোঝাই একটি ট্রাক পার হওয়ার সময় গোয়াতলা বেইলি ব্রিজটি ভেঙে পড়ে। প্রায় এক দশক আগে ব্রিজটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে এটি ব্যবহার করা হচ্ছিল।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন, এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ইন্দু ভূষণ বিশ্বাস, গোয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম তালুকদার টোটন এবং উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পরিদর্শন শেষে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ধোবাউড়া-তারাকান্দা সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজ ধসে পড়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা জরুরি।
তিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, এলজিইডি এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের সচিব, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু এবং স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রীর কাছে একটি ডিও পত্রও প্রদান করা হয়েছে।
প্রিন্স বলেন, ইতোমধ্যে ভেঙে পড়া বেইলি ব্রিজ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে নতুন স্থায়ী সেতু নির্মাণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করার পরও গত ১০ বছরে স্থায়ী সেতু নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এলাকাবাসী অনিশ্চয়তার মধ্যে চলাচল করেছেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাজ শুরুর আগেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা ও স্থায়ী সেতু নির্মাণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
পরিদর্শন শেষে তিনি প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের দ্রুত কারিগরি প্রতিবেদন প্রস্তুতের নির্দেশ দেন এবং নিরাপদ ও টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
আপনার মতামত লিখুন :