আল মাহমুদ দোলন, পঞ্চগড় : ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এর পুশইন ঠেকাতে পঞ্চগড়ের সীমান্ত এলাকায় টহল তৎপরতা বাড়িয়েছে বিজিবি।
সম্প্রতি পঞ্চগড়সহ দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে রাতের আধারে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিজিবির তৎপরতায় ব্যর্থ হয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। এঘটনার পর থেকে স্থানীয় মানুষদের সাথে নিয়ে সীমান্ত এলাকায় টহল আরো জোরদার করেছে বিজিবি। পুশইন রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে চলছে উঠান বৈঠকসহ নানা উদ্যোগ।
গত ৫ জুন শুক্রবার ভোরে সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধান পাড়া সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ কর্তৃক এ পুশইন চেষ্টার ঘটনাটি ঘটে। তিন দিনে দুই দফা পতাকা বৈঠকের পরও কোন সুরাহা না হওয়ায় দুদেশের সীমানার জিরো লাইনে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটছিলো পুশইনের শিকার হওয়া ১০ মানুষের।
এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পর গত (৭ জুন) আনুমানিক রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ। এ ঘটনার পর থেকে পঞ্চগড়ের প্রায় ২৭৮ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত ভারতীয় সীমানায় বিজিবির পক্ষ থেকে বাড়ানো হয়েছে টহল। আন্তর্জাতিক আইন না মেনে ভারতের এ ধরনের অপতৎপরতা রোধে তাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করছেন স্থানীয় মানুষও।
সরেজমিনে গিয়ে মীরগড়ের হুসেন আলীর সাথে কথা বলে জানা যায়, "পঞ্চগড় শহর মীরগড় সীমান্ত খুব কাছে হওয়ায় পুশইনের শিকার মানুষজন তাড়াতাড়ি ঢুকতে পারবে তাই আমরা বিজিবির সাথে এই সীমানা আমরাও পাহারা দিচ্ছি। "
এখানের স্থানীয় বাসিন্দারাও উৎকন্ঠিত, সীমানায় এমন পরিস্থিতি মোটেও কাম্য না। হারেজ আলি জানান, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের পর শুভেন্দু এসে হুট করে এই সমস্যার তৈরি করে, বাংলাদেশে পুশ ইন টা বেড়ে গেছে। আমরা চাই যদি বাংলাদেশী হয়ে থাকে তাহলে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পাঠানো হোক, চোরের মতো রাতের আঁধারে যেনো ঠেলে দেওয়া না হয়।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে যেকোন সময় বিএসএফ প্রবেশ পুশইন করতে পারে এজন্য আমরা টহল জোরদার করেছি।
আপনার মতামত লিখুন :